সাইফুল ইসলাম জুয়েল
এই তো সেদিনের ঘটনা। বেশ আয়োজন করে ঠাট্টার ৩০০তম সংখ্যা বের করি। দেশের তত্কালীন প্রায় সব ফান পাতার বিভাগীয় সম্পাদক, ঠাট্টার শুরুর দিককার প্রদায়কগণসহ অনেক পাঠক-লেখকের লেখায় মুখর হয়ে ওঠে ঠাট্টা ম্যাগাজিনটি। তখনো ভাবতে পারিনি, ঠাট্টার একদিন ৫০০তম সংখ্যাও বের হবে, আর সেটা খোদ আমার হাত দিয়েই...। সময়, স্রোত বয়ে যায় সত্য, তবে তারা বুঝি কেবল ঠাট্টা করার জন্যই অপেক্ষা করে! আজও মনে হয়, এই তো সেদিন ঠাট্টার আবির্ভাব ঘটল। অথচ, কী বিস্ময়ের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২টি বছর চলে গেছে। ঠাট্টার তিন নম্বর সংখ্যায় লিখলাম পাঠক হিসেবে। তারপর... ৯১তম সংখ্যায় প্রদায়ক হিসেবে প্রথম লেখা প্রকাশ হলো, আর ১৫৬তম সংখ্যাটা স্বয়ং নিজের হাত দিয়েই...
একসময় ঠাট্টার পাতায় পাতায় আমার লেখা থাকত। কোনো কোনো সংখ্যায় নামে-বেনামে সর্বোচ্চ আটটি লেখাও লিখেছি। তারপর, অন্যদের লেখার সুযোগ করে দিতেই লেখা কমিয়ে দিয়েছি।
ঠাট্টায় লিখেই আমার ‘গুপ্তদা’, ‘কেল্টু মামা’, ‘বিলু ভাই’ চরিত্রগুলো জনপ্রিয়তা পায়। ‘সেলফি কর্নার’ বিভাগের লেখাগুলো ভূয়সী প্রশংসিত হয়। আর সর্বশেষ ২ বছরের অধিক সময় ধরে ‘হিরু দ্য গুরু’ রম্য সিরিজটি লিখে চলেছি স্রেফ পাঠকের ভালোবাসা পাচ্ছি বলেই।
প্রথম ঠাট্টা ছিল ম্যাগাজিন আকারের ৩২ পৃষ্ঠা। দুই থেকে ৩৪৬তম সংখ্যা পর্যন্ত সে ১৬ পৃষ্ঠার ম্যাগাজিন আকারেই বের হলো। তারপর থেকে চলতি সংখ্যা পর্যন্ত তার নতুন রূপ, অর্থাত্ ট্যাবলয়েড রূপ দেখে আসছি আমরা। জানি না, সামনের দিনগুলোতে সে কোন রূপে ধরা দেবে!
তবে, একটা কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, সময়ের পরিক্রমায় ঠাট্টার একটা রূপ কখনো বদলাবে না। সে মানুষের মুখে অবিরাম হাসি ফোটাতে ব্যস্ত থাকে। সে সর্বদা পাঠকের কথা ভাবে। পাঠকের জন্য তার নিত্যনতুন আয়োজন বিদ্যমান থাকে।
ঠাট্টার এই ঠাট্টাপনা চলতে থাকুক...।