ওয়ালটন-ইমরুলে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার

হ্যামস্ট্রিং চোটের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের নেতৃত্বে মাহমুদউল্লাহ ফিরতেই একাদশ থেকেই বাদ পড়েছেন আগের দুই ম্যাচে দলের অধিনায়কত্ব করা ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার রায়াদ এমরিট। ফেরার ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্স আহামরি ছিল না। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বোলিংয়ে তিনি চার ওভারে ১৭ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন, ব্যাটিংয়ে করেছেন ১৫ রান। তবে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মেলে ধরতে না পারার অস্বস্তিটা ম্যাচ শেষে কেটে গেছে মাহমুদউল্লাহর। কারণ তার দল বঙ্গবন্ধু বিপিএলে তুলে নিয়েছে দ্বিতীয় জয়।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সকে ছয় উইকেটে পরাজিত করেছে চট্টগ্রাম। তিন ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। অন্য দিকে বিপিএল মিশনের শুরুতে টানা দুই ম্যাচ হারল রংপুর।

নাঈম শেখের হাফ সেঞ্চুরির পরও আগে ব্যাট করে আট উইকেটে ১৫৭ রান তুলে রংপুর। জবাবে চ্যাডউইকট ওয়ালটনের হাফ সেঞ্চুরি ও ইমরুল কায়েসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১৮.২ ওভারে চার উইকেটে ১৫৮ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় চট্টগ্রাম। দল হারলেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরা হন রংপুরের নাঈম শেখ।

গতকাল টসে হেরে আগে ব্যাট করে রংপুর। ব্যাট হাতে দলকে একাই টেনে গেছেন নাঈম শেখ। ওপেনিংয়ে নেমে ইনিংসের ১৮তম ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন এই তরুণ ওপেনার। ৫৪ বলে ৭৮ রানের (ছয় চার, তিন ছয়) ইনিংস খেলেছেন নাঈম। তবে দলের আর কেউ সুবিধা করতে পারেননি। মিডল অর্ডারে দলের ভরসা হতে পারেননি অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিও। ২১ রান করে ফিরেছেন তিনি। গ্রেগরি ১১, তাসকিন অপরাজিত ১১, টম আবেল ১০ রান করেন। চট্টগ্রামের কেসরিক উইলিয়ামস দুইটি, মেহেদী হাসান রানা, রুবেল, রায়ান বার্ল ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট পান।

রান তাড়ার মিশনে খুব সংগ্রাম করতে হয়নি চট্টগ্রামকে। দুই ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো ও ওয়ালটনই ম্যাচটা সহজ করে দিয়েছেন। ওপেনিংয়ে তারা গড়েছেন ৬৮ রানের জুটি। পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার করেছেন তারা। অষ্টম ওভারে আউট হওয়ার আগে ফার্নান্দো ২৩ বলে ৩৭ রান করেছেন। ওয়ালটন তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। ৩৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে ফিরেন এই ক্যারিবিয়ান। মাহমুদউল্লাহ (১৫), নাসির হোসেন (৩) সুবিধা করতে না পারলেও ইমরুল একপ্রান্ত আগলে খেলে গেছেন। দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৩৩ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইমরুল।

রংপুরের বোলাররা চেপে ধরতে পারেননি চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের। বিশেষ করে বল হাতে নিষ্প্রভ দলটির দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। অথচ তারা দুজন দলটির বড়ো ভরসা। তাসকিন এক ওভারে দিয়েছেন ১৪ রান। মুস্তাফিজ ৩.২ ওভারে ২১ রান দেন। দুজনই উইকেটশূন্য। রংপুরের গ্রেগরি দুইটি, নবি ও আবেল একটি করে উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রেঞ্জার্স         : ২০ ওভারে ১৫৭/৮

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স   : ১৮.২ ওভারে ১৫৮/৪

ফলাফল               : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেট জয়ী

ম্যাচ সেরা             : নাঈম শেখ (রংপুর)