স্পোর্টস ডেস্ক
১১ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে মৌসুমের প্রথমার্ধটা এবারের চেয়ে বাজে কখনো কাটেনি পেপ গার্দিওলার। ১৬ ম্যাচের চারটিতে হেরে ইতিমধ্যেই শীর্ষে থাকা লিভারপুল থেকে ১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে তার দল ম্যানচেস্টার সিটি। দলের এমন বাজে ফর্ম চলতি মৌসুম শেষে গার্দিওলার ইংল্যান্ডে থাকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ—এ দুই ক্লাবে মোট সাতটি মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি। শিরোপা হারিয়েছিলেন মোটে একটিতে। হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদের কাছে সেবার শিরোপা খোয়ালেও শিরোপাজয়ীদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটা কখনো দুই অঙ্কে পৌঁছায়নি। সিটিতে নিজের প্রথম মৌসুমেও এমন বাজে পারফরম্যান্স ‘উপহার’ পাননি গার্দিওলা, যেটা পাচ্ছেন এই মৌসুমে।
শেষ দুই বছরে ১০০ ও ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল তার দল সিটি। এবার লিগ জিততে পারলে চলতি শতাব্দীতে টানা তিন লিগ জেতা প্রথম দল বনে যেত সিটিজেনরা, প্রথম কোচ হতেন এই স্প্যানিশ। কিন্তু এমন কীর্তির সামনে এসেই যেন খেই হারাল তার দল। নরউইচ সিটি, উলভারহ্যামপটন, লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হারের ফলে এখন শিরোপা জেতাটা অসম্ভব এক লক্ষ্যই হয়ে গেছে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাধারীদের।
যেটা মেনে নিয়ে গার্দিওলাও ইউনাইটেড ম্যাচের পর জানিয়েছিলেন, শিরোপার আশা ছেড়ে দিয়েই চেষ্টা করতে হবে দলকে। আজ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে খেলবে সিটি। গানারদের মাঠ থেকে হেরে ফেরত এলে শিরোপা থেকে আরো দূরে সরে যাবে তারা।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রমণ হজম করেছে তারা। তবে যেগুলো হজম করেছে, সেগুলো প্রতিহত করার অনুপাত একেবারেই সিটিসুলভ নয়। তার মানে দাঁড়ায়, গোলমুখে দৃঢ়তার অভাব সিটির ‘পতন’-এর একটা বড়ো কারণ। প্রতিপক্ষের গোলমুখেও প্রায় একই পরিণতি দলটির। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা দলটিও ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ে সমস্যার কারণে গোলের অভাবে ভুগছে।
কোচের মানসিক অবসাদও একটা কারণ কি না, এমন আলোচনাও হচ্ছে বিস্তর। কোচিং ক্যারিয়ারে কখনো এক দলকে চার মৌসুমের বেশি সময় ধরে কোচিং করাননি গার্দিওলা। সাবেক বার্সেলোনা কোচ দলের এমন বাজে পারফরম্যান্স হজম করছেন সিটিতে নিজের চতুর্থ মৌসুমে এসে। ফলে শক্ত যুক্তি দাঁড়াচ্ছে এই তর্কের সপক্ষেও। বিবিসি জানাচ্ছে, গার্দিওলার কাছের মানুষেরাও এটা বিশ্বাস করতে শুরু করে দিয়েছেন! তবে পরের মৌসুমেও সিটিতেই থাকবেন এমন বিশ্বাস তাদের।
তবে সামনের মৌসুমে তার থাকাটা গার্দিওলা ও সিটির একান্ত ব্যাপার। ঘরোয়া ফুটবলে বিবর্ণ পারফরম্যান্স সিটি কর্তৃপক্ষকেও নতুন কোচের সন্ধানে নামতে বাধ্য করেছে। ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে সিটির সঙ্গে গার্দিওলার চুক্তিটা ২০২১ মৌসুম পর্যন্ত হলেও, আসছে মৌসুমেই ক্লাব ছাড়তে পারবেন স্প্যানিশ এই কোচ। তার জায়গায় সিটি ভাবছে মরিসিও পচেত্তিনো কিংবা মিকেল আর্তেতার কথা। এদিকে বায়ার্ন কিংবা বার্সেলোনায় তার ফেরার গুঞ্জনের পালেও হাওয়া লাগছে বেশ।
তবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যে শিগিগরই মিলছে না, তা একরকম নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত গার্দিওলা মানসিক অবসাদের কাছে হেরে যাবেন, নাকি কোচিং ক্যারিয়ারে শীর্ষ দলের সঙ্গে সবচেয়ে বড়ো ব্যবধানটা ঘুঁচিয়ে ঘরে তুলবেন টানা তৃতীয় শিরোপা, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।