বরিস জনসনকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির বিজয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই বিজয় দলটির নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাজ্যের জনগণের ব্যাপক আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। এই বিজয় ঢাকা-লন্ডনের বিদ্যমান সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করছে। তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমারের বর্বরতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। আর এটা সম্ভব হলেই রোহিঙ্গারা পূর্ণ অধিকার, সম্মান, নিরাপত্তা ও টেকসই পরিবেশে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারবে।’ এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জনসনের বাংলাদেশ সফর ও রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ দুটির সম্পর্ক গণতন্ত্র ও সহনশীলতার অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলার মতো ইস্যুতে আমরা একই অবস্থানে রয়েছি। আমরা অধিকতর সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার অংশীদার। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্কের জন্য তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বরিস জনসন নতুন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশ-ব্রিটিশ নাগরিকসহ আমাদের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য ঢাকা-লন্ডন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ‘অভিন্ন স্বার্থ এবং মানবতার জন্য অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আরো জোরদারে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করার জন্য আমি তাকিয়ে আছি।’ শেখ হাসিনা ২০২০ সালে বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বরিস জনসনকে আন্তরিকভাবে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান।