১৬ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার রাস্তাঘাট পুরো ফাঁকা ছিল। মালিবাগের মোড়ে গিয়ে দেখি, মাঝেমধ্যে একেকটা আর্মির গাড়ি বা ট্রাক আস্তে-ধীরে চলে যাচ্ছে। মেইন রোডের কাছাকাছি চলে আসার পর দেখি অদ্ভুত কিছু মানুষ। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যাদের আটকে রেখেছিল, টর্চার করেছিল, তারা বেরিয়ে এসেছেন। মানসিকভাবে তারা বিক্ষিপ্ত। তখনও বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে মাইকে ঘোষণা হচ্ছিল দেশ স্বাধীন হচ্ছে। দুপুর থেকেই হুলস্থুল পড়ে গেল। ভারতীয় আর্মিরা ট্যাঙ্ক নিয়ে ঢুকল। মানুষজন রাস্তায় বের হতে থাকল। আমাদের একটা ক্যাম্প ছিল নবরত্ন কলোনিতে, এখন যেটা বেইলি রোড, ৪ নম্বর বাড়িতে। আরেকটা ক্যাম্প ছিল ফকিরাপুলে। এগুলো গোপন আস্তানা। ওখান থেকে আমরা বিভিন্ন অপারেশনে যেতাম। ওই পরিবারের এক মেয়ে সেদিন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ওখানে গুলিবিদ্ধ হয়। দুপুরের মধ্যে জানা গেল, পাকিস্তানি আর্মি সারেন্ডার করবে রেসকোর্স ময়দানে। বিকেলের দিকে গেলাম পল্টনে, আমার বাড়িতে। রাতে খবর এলো, আমাদের কমান্ডার নাসির উদ্দীন ইউসুফ দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। তখন রাত ৯টার মতো হবে। ৫২ জনের টিম ছিল আমাদের। পরে আমরা ৪টি টিমে ভাগ হয়ে গিয়েছিলাম। লোকাল লোকও রিক্রুট করতাম। ওদের সবাইকে ঢাকায় আনা হবে। সেই রাতেই গাড়ি জোগাড় করলাম আমরা। আমাদের সঙ্গের অনেকেই শহীদ হয়েছেন। তাদের কথা সেদিন খুব মনে পড়েছিল।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রসঙ্গে
দেশের গুণী অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ