আহত ষাঁড় থেকে সাবধান —মার্ক বাউচার

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলোয়াড়ি জীবনেও চাঁছাছোলা কথা বলার জন্য পরিচিত ছিলেন। কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নিয়েই সেই কথার লড়াই শুরু করলেন। প্রথমেই নিজেদের সামনের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে সতর্ক করে দিয়ে বললেন, আফ্রিকার মাটিতে আহত ষাঁড় থেকে সাবধান থাকার জন্য।

শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বাউচার। তার এই দায়িত্ব চলবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। আপাতত শুরুতেই তাকে সামলাতে হবে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে গিয়ে বাউচার বলছিলেন, ‘তারা মিডিয়াতে অনেক কিছুই বলছে। আমি তাদের স্রেফ একটা কথা বলতে চাই—আহত ষাঁড় থেকে সাবধান; বিশেষ করে আফ্রিকায় এলে।’

নিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন রূপ দেখেছেন। ১৫০ টেস্ট থেকে মাত্র তিনটে ম্যাচ দূরে থমকে গেছে তার ক্যারিয়ার। চোখের এক ইনজুরিতে বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। কিন্তু দৃঢ়তা নষ্ট হয়নি। টাইটান্সের কোচ হিসেবে খুব সফল সময় কাটিয়েছেন। এই দলের হয়ে পাঁচটি ট্রফি জিতেছেন। আজ মোজানসি সুপার লিগের ফাইনালে ষষ্ঠ ট্রফিটাও জিতে ফেলতে পারেন। তার দলে খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছেন এইডেন মার্করাম, লুঙ্গি এনগিডি, তাবরাইজ সামসি, হেনরিক ক্লাসেনরা।

এখন তাকে একটা কঠিন সময় কাটাতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের হয়ে। গত কয়েক মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল যেসব বিপর্যয় কাটিয়েছে, তারপর এই দলটাকে গোছাতে হবে বাউচারকে। সাবেক এই উইকেটরক্ষক বলছেন, খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই তিনি দেখছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা কঠিন সময় ভালো পার করে, ‘আমি যেসব দলের হয়ে জীবন কাটিয়েছি, সেসব জায়গায় অনেক কঠিন সময় এসেছে। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল, হ্যানসি ক্রনিয়ে কাণ্ড। আর এরপরই আমরা অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়েছিলাম।’

বাউচার স্বীকার করছেন, দলের আত্মবিশ্বাস এখন একটু কম আছে। সেটা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি, ‘খেলাধুলা খুব মজার একটা ব্যাপার। এখানে আপনি কয়েক দিনে সবকিছু বদলে ফেলতে পারেন। তবে আমি বুঝি যে, আমাদেরকে বেশ কাজ করতে হবে। এখন আমাদের আত্মবিশ্বাসে একটু ঘাটতি আছে। আমাদের সেই বিশ্বাসটা ফিরে পেতে হবে। আমরা সঠিক পথে চলার জন্য যা যা করার দরকার এবং খেলোয়াড়দের যে জায়গা দেওয়া দরকার, সেটা দেব।’

বাউচার বিশ্বাস করেন, তার দেশে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। স্রেফ তাদেরকে একটু সময় দিলে সব সংকট কেটে যাবে বলে তার বিশ্বাস, ‘আমাদের দেশে অনেক প্রতিভা আছে। এদেরকে একটু লালনপালন করা দরকার। আর তাদের সঠিক তথ্য জানানো দরকার। তাদেরকে সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে সঠিক পথে নিয়ে আসা দরকার। তাতে আমি মনে করি, আমাদের খেলোয়াড়দের থেকে সেরাটা আদায় করে দেওয়া যাবে।’