রাজাকারদের তালিকার আগে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী জামায়াতের তালিকা করার আহ্বান জানিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও ‘অমর একুশে গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
‘আওয়ামী লীগে জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে’ উল্লেখ করে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে মুসলিম লীগের হাত থেকে বের করে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথে এনেছিলেন। এখন সেই আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িকতার কথা বললেও সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছিল তারা এখন আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। তাই রাজাকারদের তালিকার আগে এদের তালিকা করা প্রয়োজন।
গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ??সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির বিজয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আরো বলেন, আওয়ামী লীগের এখন এমন একটা পর্যায় চলছে, যে আওয়ামী লীগ গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, সেই ক্যাপিটালিজমের ভালো কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি। খারাপ প্রভাব পড়েছে। দেশে চুরি, লুট, ধর্ষণের মতো অপকর্ম বেড়েছে। সে কারণে শেখ হাসিনার সব সাফল্য ম্লান হয়ে গেছে। সন্ত্রাস দমন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, দেশের উন্নয়ন—এসব কোনোকিছুই শেখ হাসিনা না থাকলে সম্ভব হতো না।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করতে পারে তারা আর ক্ষমতা থেকে যাবে না; কিন্তু তারা জানে না তাদের অস্তিত্ব একটা মানুষের ওপর নির্ভর করে। আর সেই মানুষটি হচ্ছে শেখ হাসিনা। আল্লাহ না করুক কোনোক্রমে তাকে সরিয়ে দিলে দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। এরপর একজন লোককেও আর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে দেখা যাবে না। এখন রাজাকার আলবদরসহ অনেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের জন্য ব্যস্ত; কিন্তু তখন আর তাদের কাউকে পাওয়া যাবে না। তাই আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে আওয়ামী লীগকেই। তাই আওয়ামী লীগকে এখনই সাবধান হতে হবে।
রাজাকারদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজাকারদের তালিকা হচ্ছে—দেখা যাবে রাজাকাররাই বসে এ তালিকা করছে। এই যে সংগ্রাম পত্রিকায় কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ বলা হলো—এদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে।
এ অনুষ্ঠানে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান এমপি, সাংবাদিক হারুন হাবীব, শহিদ কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব।