স্বাধীনতা অর্জনের প্রায় ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলল। জাতি হিসেবে সামনে চলার জন্য আমাদের মাঝে মধ্যে পেছন ফিরেও দেখা দরকার। পেছনে তাকানোর দরকার আমাদের ঐতিহাসিক অর্জনগুলো থেকে শক্তি এবং আশা সঞ্চারের জন্য। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অগণিত প্রাণের এবং কোটি মানুষের অসীম কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। কোনো কোনো অপশক্তির আমাদের স্বাধীনতার মূলে আঘাত করার শত চেষ্টা সত্ত্বেও আমরা প্রায় ৫০ বছর এগিয়ে গেছি। এসব আঘাতে মধ্যে আছে আমাদের নেতাদের হত্যা, সাম্প্রদায়িক বিভক্তি সৃষ্টি এবং কালো টাকায় রাজনীতি ও জনগণের প্রতিষ্ঠানসমূহকে কলুষিত করা। তবে আশার কথা হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা সংবিধান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় লড়ে যাচ্ছি।
আরেকটি বিষয় যা থেকে আমরা জাতি হিসেবে শক্তি পাই সেটি হচ্ছে মৌলিক অধিকারের বিষয়ে ঐকমত্য। এছাড়া নির্বাচনি গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ইত্যাদি প্রশ্নেও আমরা ঐক্যবদ্ধ।
আমাদের সংবিধান আমাদেরকে ভোটাধিকার, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন গড়ার, বাক্ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং পেশা ও ব্যবসায়ের স্বাধীনতা দিয়েছে। আমরা যখন স্বাধীনতার ৫০তম বছরে পদার্পণ করছি, জনগণের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি তখন আমাদের যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে সেগুলোও অবহেলা করতে পারি না। এগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কালো টাকার কলঙ্ক ও দুর্নীতি। কারসাজির মাধ্যমে কালো টাকা মানুষের ভোটের অধিকারে আঘাত করে। কালো টাকায় নির্বাচিতরা পার্লামেন্টে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে পারে না। কালো টাকার দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ঢেলে দিতে হবে।
সবশেষ কথা, আমাদের জনগণের ঐক্য দরকার। এটা দরকার কারণ আমাদের সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে। গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা দিতে হবে। আমাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের জন্যও ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার।
আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার যাতে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন সমুন্নত হয়। সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে তা সুরক্ষিত হয়, শহিদদের স্বপ্ন পূরণ হয় এবং যে মহান উদ্দেশ্যে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি তা বাস্তবায়িত হয়।