সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ ছিল, ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিলেই জামিন পাবেন ডেসটিনির দুই জন কর্ণধার। ডেসটিনির সৃজনকৃত ৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে ঐ অর্থ পরিশোধের কথা ছিল তাদের। কিন্তু তিন বছরেও ঐ আদেশের বাস্তবায়ন হয়নি, তাই মুক্তিও মেলেনি। গতকাল রবিবার জামিন শুনানিতে ডেসটিনির আইনজীবীর কাছে আদালত জানতে চান, গাছ কোথায় গেল? জবাবে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি মৃদু হেসে বলেন, গাছ তো ছাগলে খেয়ে ফেলেছে! পরে তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অধিকাংশ গাছ কেটে নিয়েছে, যার কারণে অর্থ পরিশোধ সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালের অর্থ পাচার আইনে সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। আবেদনকারীরা সাত বছর ধরে কারাগারে আছেন। নিম্ন আদালতে মামলার বিচারের যে ধীরগতি, তা শেষ হতে কত বছর লাগবে জানি না। বিচারাধীন মামলায় তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা সংবিধান পরিপন্থি। তারা অসুস্থ—এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া হোক।’ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় জন বিচারপতির বেঞ্চে এই শুনানি চলে।
জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, ডেসটিনির প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুটি শর্তে জামিন মঞ্জুর করেছিল আপিল বিভাগ। কিন্তু ঐ দুটি শর্তের একটিও তারা বাস্তবায়ন করেননি, যার কারণে জামিন পাননি। তাই জামিন আবেদন খারিজ করা হোক। শুনানি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আপিল বিভাগ। ডেসটিনির পক্ষে আদালতে ব্যারিস্টার এম মাইনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।