বিজয় দিবসে উত্সবের নামে অশ্লীলতার আয়োজন

আজ মহান বিজয় দিবস। ৩০ লাখ শহিদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মহিমায় উত্কীর্ণ ভাবগম্ভীর দিবসে উত্সবের নামে অশ্লীলতা ও বেলেল্লাপনার আয়োজন চলছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বিজয়ের আনন্দ আর শোকাশ্রুর দ্যোতনায় ভাস্বর এই দিনে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হন, দেশপ্রেমিকে শানিত করেন। অথচ এই দিনটিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার নামে সমাজে চিহ্নিত এক শ্রেণির মানুষ রীতিমত মহান বিজয় দিবসের চেতনাকে লুটিয়ে দিচ্ছেন। যা মহান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভ্রুকুটি, চরম অশ্রদ্ধা ও অমার্জনীয় ধৃষ্টতা এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহান বিজয় দিবসে যারা বিজয় উত্সবের নামে নর্তকি ভাড়া করে অশ্লীল নাচ-গানের আয়োজন করছেন, তারা অধিকাংশই একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর ছিলেন। তারা ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশ করে বহু অপকর্মের মতো স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসের ভাবমূর্তি ও ভাবগাম্ভীর্য বিনষ্ট করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অনুপ্রবেশকারী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নিজেদের অতি আওয়ামী লীগার বা মুক্তিযোদ্ধাপক্ষ বলে প্রমাণ করার জন্য অতি উত্সাহ প্রদর্শন করে আসছেন। যার ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ অপাঙেক্তয় হয়ে পড়েন। কেবল এই একটি দিনই নয়, বিজয় দিবসকে ঘিরে দেশের অনেক জায়গায় পক্ষকাল বা মাস জুড়ে বিজয় মেলা শুরু হচ্ছে আজ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা ক্লাবের নামে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রশাসনের কাছ থেকে মেলার অনুমতি আদায় করে দিচ্ছেন। এরপর মেলার নামে প্রতি বছরের মতো আবারও চলবে যাত্রা, পুতুলনাচ, সার্কাসের নামে অশ্লীল নৃত্য আর জুয়ার রমরমা আসর। এর নেপথ্যে দেখা যায় অনুপ্রবেশকারীদের প্রাধান্য।