বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
আইন
শাস্তি
দায়িত্ব ও কর্তব্য
ক
মৃত্যুদণ্ড ,
পাঁচ লক্ষ টাকা দণ্ড।
নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা,নারীর ক্ষমতায়ন।
খ
মৃত্যুদণ্ড , একলক্ষ টাকা দণ্ড।
যৌতুক প্রতিরোধ আইন,নারী অধিকারের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্ম তত্পরতা বৃদ্ধি।
গ
৭ বছর কারাদণ্ড, কিছু অর্থদণ্ড ও দিতে হবে।
সুস্থ পারিবারিক শিক্ষা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচার-প্রচারণা।
সৃজনশীল
৩। ক) গোষ্ঠী জীবনের প্রথম ধাপ কোনটি ? খ) জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ বলতে কী বোঝায় ? গ) ‘ ক ’ চিহ্নিত স্থানে কোন ধরনের আইনের বহি:প্রকাশ ঘটেছে ব্যাখ্যা কর। ঘ) উদ্দীপকেক , খ , গ নামক যে তিনটি আইন রয়েছে শুধুমাত্র এ আইনগুলোর মাধ্যমেই কি বর্ণিত সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব? মতামাত দাও ।
ক) উত্তর: গোষ্ঠী জীবনের প্রথম ধাপ হলো পরিবার।
খ) উত্তর : শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশুদের সুরক্ষা দিতে জাতিসংঘ ঘোষিত সুস্পষ ্বনির্দেশনা সংবলিত সনদই হলো জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ। ১৯৮৯ সালে প্রণীত এ সনদে শিশুদের শিক্ষা , স্বাস্থ্য , নিরাপত্তা ,শিশুশ্রম ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। এ সনদে শিশুশ্রমের বিষয়েও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় শিশুশ্রমের জন্য বয়স ,কর্মে নিয়োগের শর্ত , কর্ম ঘন্টা ইত্যাদি নির্ধারণের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
গ) উত্তর ঃ ‘ ক ’ চিহ্নিত আইনের শাস্তি স্বরূপ মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। এ আইনটি করার উদ্দেশ্য হলো নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং নারীর ক্ষমতায়ন। এ বিষয় পর্যবেক্ষণ করলে বলা যায় ‘ক ’ আইনটি হলো মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০০১ এর প্রতি চিত্র। কেননা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০০১-তে মানব পাচারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো প্রতিবছর বাংলাদেশে থেকেও প্রচুর নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে। পাচারকৃত এসব নারী ও শিশুরা নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয়। এদের কেবল প্রয়োগ করে ,ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন অবমাননাকর ,অমানবিক , অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন-যৌনবৃত্তি , উটেরজকি, মাদকপাচার ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রয় ইত্যাদি। অধিক উপার্জন করার লোভ দেখিয়ে বা উন্নতজীবনের লোভ দেখিয়ে নারীদের পাচার করা হয়। পাচারকারী চক্র বিভিন্নভাবে শিশুদের ভুলিয়ে বা প্রলুব্ধ করে ধরে নিয়ে যায়। এসব পাচারকারীদের জন্যই উদ্দীপকের ‘ ক ’ নির্দেশিত আইন প্রয়োগযোগ্য। এছাড়া নারীদের সচেতন করতে পারলে এবং ক্ষমতায়ন করতেপারলে এটা প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
ঘ) উত্তর : উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ আইনটি হলো মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২ ,‘ খ ’ আইনটি হলো এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এবং ‘ গ ’ আইনটি হলো নারী নির্যাতন দমন আইন ২০০। এ আইনগুলো নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। তবে শুধু এ আইনগুলোর মাধ্যমে নারীর প্রতিসহিংসা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। নারীর প্রতিহিংসা প্রতিরোধে এ আইনগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন- ১। নারী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ ,বিধবা ভাতা প্রদান এবং নারীর জন্য ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা। ২। নির্যাতন, সহিংসতার ধরন ও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন
প্রণয়ন এবং এর যথাযথ প্রয়োগ। ৩। পরিবারের ছেলেমেয়ে উভয়কেই পারিবারিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ গঠন সম্পর্কিত শিক্ষা প্রদান করা।
৪। নারীঅধিকার ও অধিকারসংশ্লিষ্ট আইনবিষয়ে সচেতনা সৃষ্টি করা।
৫। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্ম তত্পরতার সম্প্রসারণ।
৬। নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৭।নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রবর্তিত আইন যেমন-এসিড অপরাধ দমন আইন , এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন , যৌতুক প্রতিরোধ আইন , পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ , বাল্যবিবাহ অধ্যাদেশ , সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশ ইত্যাদির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৮।সামাজিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা।