বন্ধুরা তাকে ‘লিজেন্ড’ বলে ডাকে। কিন্তু লিজেন্ড হয়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছিলেন না। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে গত এক যুগের মতো সময় ধরে আসলেই লিজেন্ড ধরনের পারফরম্যান্স আবিদ আলীর। এই ১২ বছরে ৭১১৬ রান করেছেন ১০৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে। গত তিন বছরে তার এই ফরম্যাটে গড় ৫৭.৪৩। তারপরও টেস্ট অভিষেকের সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
অবশেষে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দলে এলেন। ঘরের মাটিতে ১০ বছর পর পাকিস্তানের খেলা প্রথম টেস্টে মাঠে নেমেই ইতিহাস করে ফেললেন আবিদ আলী। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ও টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
গত এক বছরেরও বেশি সময় জাতীয় দলের সঙ্গে সঙ্গে আছেন আবিদ। ফকর জামান, ইনাম-উল-হক ও শান মাসুদের সঙ্গে লড়াই করে দলে ঠাঁই পাচ্ছিলেন না। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান যখন মূল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিল তখন ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন আবিদ আলী। সেখানেই প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে ফেলেন। এরপর আরো ৩টি ওয়ানডে খেলেছেন।
এই পারফরম্যান্সের পরও বিশ্বকাপ দলে সুযোগ হয়নি। সর্বশেষ পাকিস্তান দলের অস্ট্রেলিয়া সফরেও দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু একাদশে সুযোগ পাননি। এবার সুযোগটা পেলেন টেস্টে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুযোগ পেয়েই ইতিহাসে নাম লেখালেন।
আবিদের অবশ্য এই সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি বলছিলেন, ‘আমাকে অবহেলা করা হলে আমি কখনোই ক্ষুব্ধ হই না। আমার অনেক ধৈর্য আছে। আমার সব সময় বিশ্বাস ছিল যে, আমার সময় আসবে। আর সময় আসলেই প্রমাণ করতে হবে যে, আমি কী করতে পারি।
আবিদ বলছিলেন, একাদশে সুযোগ না পেলেও দলের সঙ্গে সঙ্গে থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি দলের সঙ্গে ছিলাম এবং নিজের ফিটনেস লেভেল ভালো রাখতে পেরেছি। আমি ছোটো ছোটো পরিকল্পনা করে নিজের স্কিল নিয়ে পরিশ্রম করেছি। আমি জানতাম, কোনো একদিন আমার সুযোগ আসবে। আমি সবসময় এই সুযোগটার জন্য তৈরি ছিলাম। ভাগ্যবশত আমি সেই সুযোগটা পেয়েছি এবং শুরুতেই সেঞ্চুরি পেয়েছি। আর কী চাইতে পারতাম? আমি এই দিনটার জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করেছি।’
অবশ্য এই সেঞ্চুরিই নিশ্চয়তা দেয় না যে, আবিদ লম্বা সময় এই জায়গাটা ধরে রাখতে পারবেন। কারণ, ইমামের মতো ব্যাটসম্যান বসে আছেন। ওদিকে সামি আসলামের মতো পারফরমার ঢোকার চেষ্টা করছেন দলে। আবিদ বলছিলেন, তিনি লড়াইটা জানেন। ফলে এ নিয়ে অস্বস্তিতে নেই, ‘আমি জানি, এখানে অনেক প্রতিযোগিতা আছে। সম্প্রতি এই প্রতিযোগিতা বেড়েছে। আমি জানি, এখানে টিকে থাকতে হলে আমাকে পারফরম করে যেতে হবে। আমাকে নিজের খেলার মান বাড়াতে হবে এবং প্রতিটা সুযোগে ভালো পারফরম করতে হবে।’
আবিদের এখন সুযোগ আছে পাকিস্তানের সেরাদের কাতারে চলে যাওয়ার। নিজের ‘লিজেন্ড’ নামটা স্বার্থক করার সুযোগ তার সামনে। কিন্তু আবিদ বলছিলেন, তিনি নিতান্তই সাধারণ একজন ক্রিকেটার, ‘আমি খুব সাধারণ একজন ক্রিকেটার। আমি এসব গ্রেট খেলোয়াড়ের সঙ্গে এক মানের হতে পারব না। আমি আবিদ আলী এবং আমাকে আবিদ আলী হিসেবেই দেখবেন।’