ভারত রান একেবারে কম করেনি—৮ উইকেটে ২৮৭। কিন্তু এই রানটাই ৮ উইকেট ও ১৩ বল হাতে রেখে টপকে গেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের দুজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরিও করলেন। ম্যাচশেষে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি মেনে নিলেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ধরনের ক্রিকেট খেলেছে, তাতে জয়টা তাদের প্রাপ্য ছিল।
প্রথমে ব্যাট করতে গিয়ে ভারত দ্রুত কয়েকটা উইকেট হারিয়ে ফেলে। এরপর দলকে টেনে তোলেন শ্রেয়াশ আয়ার ও ঋষভ পান্ট। কোহলি বলছিলেন, এই দুজন সুযোগ খুব ভালো কাজে লাগিয়েছেন, ‘আমি মনে করি, আমি ও রোহিত ক্লিক না করায় আমাদের দুই তরুণের (আয়ার ও পান্ট) সামনে দারুণ সুযোগ এসেছিল। ওরা নিজেদের জায়গা স্থায়ী করার জন্য সেই সুযোগ দারুণ কাজে লাগিয়েছে।’
তবে সবমিলিয়ে এই জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্মার্ট ক্রিকেটের জন্য খুব কৃতিত্ব দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘ওরা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) এই স্লো উইকেটে খুব স্মার্ট ক্রিকেট খেলেছে। আমরা মনে করেছি, ছয়টা বোলিং অপশন যথেষ্ট ছিল। বিশেষ করে উইকেট খুব স্লো ছিল। কিন্তু উইকেটে ফ্লাড লাইটের নিচে একটু ভিন্ন আচরণ করেছে। কিন্তু ওরা খুব ভালো ব্যাট করেছে। সেটা ওদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া যাবে না। হেটমেয়ার ও সেই (হোপ) অসাধারণ ছিল।’
অন্য দিকে ১০৬ বলে ১৩৯ রান করা হেটমেয়ার বলছিলেন, তার ইনিংসের রহস্য স্রেফ জোরে বল পেটানো। তিনি ম্যাচের পর বলছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমি যতটা সম্ভব জোরে বল মারার চেষ্টা করি। আমার লক্ষ্য একটাই। বলটাকে বাউন্ডারি লাইনের ওপারে পাঠানো।’
ম্যাচের সেরা এই ক্রিকেটার নিজের ইনিংসটার মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলছিলেন, ‘এই সেঞ্চুরির মূল্য আমার কাছে অনেক। শেষ সেঞ্চুরিটা পেয়েছিলাম এই বছরের শুরুতে। পরের বছরে আমার লক্ষ্য হবে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা।’
হেটমায়ার বলছেন এই সেঞ্চুরিটার গুরুত্ব ভারতের বিপক্ষে আগে করা সেঞ্চুরির চেয়েও অনেক বেশি। কারণ এবার তিনি ম্যাচ জেতাতে পেরেছেন, ‘এর আগে যখন খেলেছিলাম, সেঞ্চুরি করেছিলাম। কিন্তু দল জিততে পারেনি। এ বার জিতল। ম্যাচের পরে এ রকম জয়ের হাসি হাসতে পারলে সত্যিই ভালো লাগে।’
সেই হোপের সাথে দারুণ একটা জুটি করতে পারার পেছনের কথা বলতে গিয়ে হেটমেয়ার বলছিলেন, তারা পরস্পরকে খুব ভালো বোঝেন, ‘আমরা দুজনে একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলেছি। আমি ওর খেলাটা জানি, ও আমার খেলাটা। দুজনে যখন একসঙ্গে ব্যাট করি, তখন আমি আগ্রাসি ব্যাটসম্যানের ভূমিকাটা নিই। হোপ উলটো দিকে উইকেটটা ধরে রাখে। এ রকম একজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে খেলার সুবিধে অনেক।’
আর এই হোট ও হেটমেয়ার মিলে স্বস্তিটা এনে দিয়েছেন তরুণ ক্যারিবিয় অধিনায়ককে। কাইরন পোলার্ড তাই বলছিলেন, ‘হেটমায়ারের খুব সমালোচনা হচ্ছিল ইদানিং। আসল ব্যাপারটা হল নিজের ভূমিকাটা বুঝতে পারা আর দায়িত্ব পালন করা। টিম ম্যানেজমেন্টের সম্পূর্ণ আস্থা আছে হেটমায়ারের ওপরে।’