প্রদর্শনীতে উঠে এলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শনের বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে। জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে এ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন। রয়েছে সেই উত্তাল দিনগুলির ছবি, সংবাদপত্র। এই বিশেষ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, নৃশংসতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের আখ্যান। মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে        জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শনের বিশেষ প্রদর্শনী, বিজয়ের গান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা সভার। গতকাল সোমবার বিকেলে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শামসুজ্জামান খান। প্রধান বক্তা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক হারুন হাবীব। আলোচনায় অংশ নেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, শহিদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও ম. হামিদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ। পরে সবাই মিলে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে এই রক্তাক্ত ইতিহাসের খণ্ড খণ্ড চিত্র। ছবিতে দলিল ও নিদর্শনের মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধকে। এই বিশেষ প্রদর্শনীতে বিশেষ সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রদত্ত মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র। রয়েছে যুদ্ধে ব্যবহূত মেশিনগানসহ বিশেষ যুদ্ধাস্ত্র, যা দর্শক ও গবেষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

জাদুঘরের সংগ্রহে থাকার প্রায় ৪ হাজার নিদর্শনের মধ্য থেকে ২০০টি নিদর্শন প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। রয়েছে ১০০ আলোকচিত্র। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, বধ্যভূমি থেকে উদ্ধারকৃত মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের কংকাল, মাথার খুলি, হাড়ের টুকরো—এসব স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। আরো থাকছে মুক্তিযুদ্ধের ওপরে প্রায় ১৫০টি গবেষণাগ্রন্থ। এছাড়া রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের রণাঙ্গনের চিঠি, তাদের ব্যবহূত বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র, রাজাকার ও আলবদরদের ছবিসহ পরিচয়পত্র।

প্রদর্শনীতে আরো স্থান পেয়েছে রণাঙ্গন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা চিঠি। মা-বাবা ও স্ত্রীকে লেখা সেই সব চিঠিতে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আকুতি ফুটে উঠেছে। রয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডায়েরি। প্রদর্শনী চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আলোচনা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী তিমির নন্দী ও দেবলীনা সুর।