ইউডা

গৌরবোজ্জ্বল ডিসেম্বর

  তাজবিদুল ইসলাম

 

বছর ঘুরে জাতির জীবনে আবারও এসেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এই ডিসেম্বরেই বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। বিজয়ের এ মাসকে সামনে রেখে গল্প, আড্ডা, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে আলোয় উদ্ভাসিত ধারা। এ আড্ডায় আলোর পথ দেখছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে বেঁধে তারা স্বপ্ন দেখছে এগিয়ে যাওয়ার। তেমনি এক আড্ডায় মেতে উঠেছিল ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ বিজনেস অনুষদের শিক্ষক ও একদল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী। আড্ডায় গঠনমূলক বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় দিবসের নানা দিক।

আড্ডায় সহপাঠী সেগুফতাকে লক্ষ্য করে মেজর সেমিস্টারের মুনিয়া বলেন, বিজয়ের মাস এলেই কেন জানি আমাদের সাজসজ্জা বদলে যায়। মাস জুড়েই আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বকে স্মরণ করতে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এমন তো হবার কথা নয়! দীর্ঘ ৯ মাস জীবন বাজি রেখে যারা এ বিজয় ছিনিয়ে আনল তাদের স্মরণ করতে হবে সব সময়। কেননা তাদের এ ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না। মুনিয়ার সঙ্গে সহমত জানান সহপাঠী মিতুল ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিমেল।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-হিল মুনতাকিম বলেন, যেসব কীর্তিমান মানুষের আত্মত্যাগে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই বিজয় সম্ভব হয়েছিল তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে আজকের বিজয় মাসে আমাদের সকলের শপথ হোক, সব ধরনের হানাহানি ও বৈরিতা-বিদ্বেষকে পেছনে ফেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে নিয়ে  দেশের ও জনগণের কল্যাণে সবাই এক হয়ে কাজ করা। তাহলেই এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ, বাংলাদেশ।

প্রথম সেমিস্টারের নোমান বলেন, একটি বিজয় এসেছে বলে এসেছে বাংলাদেশ। তাকে সমর্থন করেন রেজওয়ানা । ৪৮ বছর আগে যেসব কীর্তিমান মানুষের আত্মত্যাগে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এ বিজয় সম্ভব হয়েছিল, বিজয়ের দিনে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাদের প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন। -যোগ করেন সহপাঠী শিল্পা ও আকাশ। শেষ সেমিস্টারের রাশেদুল বলেন, সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে আমাদের জন্য জীবন বাজি রেখে যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল তা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। কারণ আমরাও যদি সমাজে এ বিজয়ের প্রতিফলন ঘটাতে পারি তবে বদলে যেতে পারে আমাদের চারপাশ। তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন শাহজাহান ও শান্তা। পরিশেষে, সহযোগী অধ্যাপক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের নাম ‘বিজয়’। একটি বীর জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার নাম ‘বিজয়’। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার নাম ‘বিজয়’। ‘বিজয়’ মানে অন্যায়, অবিচারের কাছে মাথা নত না করা।

আড্ডায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর তপন কুমার বিশ্বাস, কোঅর্ডিনেটর মোস্তফা কামাল এবং প্রোগ্রাম কনভেনার ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-হিল মুনতাকিম।