ল্যাবে যখন চড় ুইভাতি

  ওহী আলম

 

মাস্টার্স মানেই শিক্ষা অর্জনের আরেকটি নতুন ধাপ। সারাদিন ক্লাস, পড়াশোনা অথবা গবেষণার জন্য ল্যাবে ব্যস্ত থাকা। আর যদি বায়োকেমিস্ট্রির মতো খটমটে কোনো বিষয় হয় তাহলে তো কথাই নেই। রোজকার সব চাপে শরীর-মন জুড়ে থাকে শুধু ক্লান্তি আর অবসাদ। কিন্তু সেই সব ক্লান্তিকে ছুটি দিতে ল্যাবই যদি হয়ে ওঠে আনন্দের কেন্দ্রস্থল আর সেই সঙ্গে আয়োজনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তবে তো কথাই নেই।

বলছিলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চড়ুইভাতির কথা। এ চড়ুইভাতি যে কোনো অন্য চড়ুইভাতি থেকে একটু ভিন্ন। শিক্ষার্থীদের নিত্য প্রতিদিনের ল্যাবই যে হয়ে উঠেছিল রান্নাঘর।

কেউ বাসনপত্র নিয়ে, কেউ কাটাকাটিতে কেউবা রান্না নিয়ে। আর ফাঁকিবাজদের দল তো আছেই। কখনো গান চলেছে, কখনো আড্ডা। কখনো বা ডিজিটাল লুডু খেলা। এ বলে এতে লবণ কম, ও বলে ওতে মিষ্টি বেশি। সবার কতশত মতামত, খুনশুটি। তবে আর যা হোক ল্যাব রুমের প্রতিটি জিনিস কীভাবে কাজে লাগাতে হয় (রান্নায়), তা আজ প্রথম দেখলাম। এর আগে কখনো এমন কিছু হয়নি এখানে। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা কর্মকতা-কর্মচারী সবার মধ্যেই কৌতূহল আর আগ্রহের কমতি ছিল না। রান্না শেষে একসঙ্গে বসে ল্যাবরুমেই খাওয়াদাওয়া।

বিকালবেলা ছিল নৌকা ভ্রমণ, নদীর ওপারে আড্ডা আর হইচই। রোজকার সব ক্লান্তি গুলে নদীর জলে ভাসিয়ে আমরা আমাদের উত্সাহ দিয়েছি নতুন উদ্যমে কাজ করার। আহা! দিন গুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না আর।