কুমেক হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্র

ফলোআপ চিকিত্সায় সিরিয়াল পেতে লাগে তিন থেকে ছয় মাস!

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ফলোআপ ক্লিনিকের ক্ষেত্রে চিকিত্সকের সিরিয়াল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগছে। ফলে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা শিশু রোগীদের অভিভাবক ও স্বজনরা। প্রথমবার চিকিত্সা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে শিশুকে চিকিত্সক দেখানোর ব্যাপারটিকে ফলোআপ ক্লিনিক বলছেন চিকিত্সকরা। অধিক রোগীর চাপ ও জনবল সংকটের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট চিকিত্সক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কেন্দ্রের চাইল্ড সাইকোলজিস্ট মো. মশিউর রহমান জানান, ‘এখানে রোগীর চাপ রয়েছে। তিন জন চিকিত্সকের পক্ষে অন্তত ছয়টি জেলা থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের দেখা কঠিন। সরকারি নিয়মের বাইরে ৫০-৬০ জন রোগী দেখা হচ্ছে। ফলোআপ ক্লিনিকের ক্ষেত্রে একজন শিশু রোগী দেখতে ৭৫-৮০ মিনিট সময় লেগে যায়। জনবল সংকট থাকায় কোয়ালিটি মেইনটেন করতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।’

কেন্দ্রের চাইল্ড হেলথ ফিজিশিয়ান ডা. শারমিন আরা জানান, ‘গত তিন মাসে ২ হাজারের অধিক রোগী দেখা হয়েছে, যা জনবলের তুলনায় অধিক। এত রোগীর চাপে আগামী ছয় মাসের সিরিয়াল অলরেডি দেওয়া হয়েছে। রোগী চাপের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে।’

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ফাতেমা বেগম, চাঁদপুরের হাইমচরের আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েক জন শিশু রোগীর অভিভাবক জানান, ‘এক মাস পর পর ফলোআপ ক্লিনিক সেবা প্রদানের নিয়ম হলেও এক্ষেত্রে চিকিত্সকের সিরিয়াল পেতে অন্তত ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

এ হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এখানে চিকিত্সক, সাইকোলজিস্ট, থেরাপিস্ট, অফিস ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ জন কর্মরত রয়েছেন।

কুমেক হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রের অফিস ম্যানেজার আবুল হোসেন জানান, ‘এ কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ কেন্দ্রে জনবল সংকট রয়েছে, আরো জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এমন সমস্যা থাকবে না।’

শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ডেভেলপমেন্টাল থেরাপিস্ট সালমা ফেরদৌসী জানান, ‘এখানে শিশুদের বিকাশে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। একটা শিশুর কোয়ানটিটি নয়, কোয়ালিটি সেবা প্রয়োজন। আমরা তা-ই দিচ্ছি।’

কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিন আহমেদ খান সাংবাদিকদের জানান, ‘এখানে রোগীর চাপ বেশি, রোগীর তুলনায় জনবল অপ্রতুল। শিশু রোগীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যার বিষয়টি সহসাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’