জৌলুসহীন ফেডারেশন কাপ শুরু আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ আয়োজন করত লিগ কমিটি। তখনকার সময়ে এটিই দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লিগ। সবার চোখ থাকত লিগের ওপর। ১৮ দল নিয়ে প্রথমে সিঙ্গেল লিগ। সেখান থেকে ৮ দলের সুপার লিগ। এর বাইরে ঘরোয়া ফুটবলের জৌলুস আরো বৃদ্ধি করার জন্য বাফুফে উদ্যোগ নিয়ে ফেডকাপ শুরু করে। লিগ শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট করা গেলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারবে। ফেডারেশনের ভান্ডারেও অর্থ আসবে। ১৯৮০ সালে ফেডারেশন কাপের প্রথম আসরেই বাড়তি মাত্রা এনে দিয়েছিল। প্রথম মঞ্চায়নেই সাড়া ফেলল। মাঝে ছন্দপতন হলেও, হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে চার দশকের এই টুর্নামেন্টের আজ ৩১তম আসরের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী এবং ঢাকায় ফুটবলে আবার নতুনভাবে ফিরে আসা পুলিশের বিপক্ষে খেলা হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, বিকাল ৪টায়।

ফেডারেশন কাপ ফুটবল বিভিন্ন সময়ে নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। একবার আবাহনীর সেমিফাইনালে উঠতে না পারার ঘটনা দেশের ফুটবলে সাড়া পড়েছিল। আবাহনীর অনেক খেলোয়াড় বিআরটিসিতে খেলে সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছিল। চার সেমিফাইনালিস্ট হলে তাদের বাছাই খেলতে হতো না। বিআরটিসি সুযোগ নিয়েছিল। মোহামেডান প্রথম আসর থেকে শুরু করে হ্যাটট্রিক ট্রফি ঘরে তুলেছিল। পালটা জবাবে আবাহনীও হ্যাটট্রিক ট্রফি জয় করেছিল। অনেক ইতিহাসের মধ্যে আরো একটি ছিল ১৯৮৭ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠল ওয়ান্ডারার্স। তত্কালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে উপচে পড়া দর্শক ফাইনালে। আবাহনী ফাইনাল খেলতে না পারায় তাদের সমর্থকেরা মাঠে গিয়েছিল মোহামেডানকে হারাতে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১-০ গোলে ওয়ান্ডারার্সকে হারিয়ে মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন। আরামবাগও একবার ফাইনাল খেলেছিল।

ফেডারেশন কাপে মোহামেডান, আবাহনী আর ব্রাদার্সের দাপট ছিল। মোহামেডান ফেডকাপের প্রথম ট্রফি জয় করেছিল ব্রাদার্সের সঙ্গে যৌথভাবে। তাদের আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। ১৯৯৪ সালে যখন তিন বড়ো দলের শক্তির বিপক্ষে দাঁড়াতে খেলোয়াড়দের পায়ের শিকল খুলতে জেন্টেলম্যান্ট এগ্রিমেন্ট ভেঙে তারকাদের নিয়ে গড়ল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। প্রথম ধাক্কায় মোহামেডান, আবাহনী ও ব্রাদার্স গুঁড়িয়ে গেল। মুক্তিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব আবির্ভূত হয়ে ২০১১ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। এখনকার দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ফেডকাপ ট্রফি পেয়েছে।

ফেডারেশন কাপ ফুটবলে আবাহনী এখন হ্যাটট্রিক শিরোপাধারী দল। এবার তাদের টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের অভিযান। টুর্নামেন্টের গত আসরে আবাহনীর বিপক্ষে লড়াই হয়েছিল নতুন দল বসুন্ধরা কিংসের। ঘটনাবহুল সেই বসুন্ধরা এবারও ছাড়বে না। ১৩ দল লড়াই করলেও বসুন্ধরা, আবাহনী, শেখ রাসেলের সঙ্গে শক্তিমত্তা দেখাতে আসছে পুলিশ ফুটবল ক্লাব।  

চার দশকের ফেডকাপ যতটুকু জৌলুসপ্রাপ্য ছিল, সেই হিসাবে সেটা এখন খুব কম। তবে টুর্নামেন্ট যেটাই হোক, যাদের পায়ের কাজ দেখতে দর্শক  মাঠে ছুটে আসত, এখন সেরকম খেলোয়াড় কোথায়? আশির দশকের পরে গোলকিপার মোতালেব, গোলকিপার মইন, কাজী সালাউদ্দিন, টুটুল, এনায়েত, নওশের, আসলাম, লোভন, গোলকিপার সান্টু, বড়ো বাদল, বেলাল, ছোটো বাদল, কোহিনুর, আবুল, সালাম, আশীষ ভদ্র, এমিলি, ওয়াসিম, মালা, মহসিন, বাবলু, মানিক, আজমত, বাতেন, লিটন, গোলকিপার মহসীন, রণজিত, কায়সার হামিদ, সাব্বির, শিমুল, মুন্না, এজাজ, ছোটো কামাল প্রমুখদের মতো অন্তত ১০০ ফুটবলার চোখ জুড়াতেন। এখন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স চোখে পড়ে না। জৌলুস হারিয়েছে স্কিলফুল ফুটবলার না থাকায়। টুর্নামেন্টের জৌলুস না থাকলেও গুরুত্ব আছে। চ্যাম্পিয়ন দল এএফসি কাপ ফুটবলের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পায়।

আজ উদ্বোধনী ম্যাচ

আবাহনী ও পুলিশ। ৪টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম