বাংলাদেশ চায় টি-টোয়েন্টি বাড়াতে

টেস্ট খেলবে না আয়ারল্যান্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার

আইসিসির ভবিষ্যত্ সফরসূচি অনুযায়ী, এক টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে আগামী মে মাসে আয়ারল্যান্ড যাওয়ার কথা বাংলাদেশের; কিন্তু একটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতে আনুমানিক ১ লাখ ইউরো খরচ হয়, যে বিলাসিতা আপাতত দেখাতে পারছে না আইরিশ বোর্ড। এই টেস্ট খেলার পরিকল্পনা তাই বাদ দিয়েছে আয়ারল্যান্ড।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন নিশ্চিত করলেন যে, আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তাদের এই বিষয়ে আলাপ হয়েছে। তবে তারা চেষ্টা করছেন তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজকে চার বা পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পরিণত করতে।

ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড এই টেস্ট না খেলার জন্য আর্থিক সংকটের কথা বলেছে। তবে সুজন বললেন, এ নিয়ে তারা মন্তব্য করবেন না, ‘তাদের সমস্যাটা নিয়ে আমাদের মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটা ঠিক যে, তারা টেস্টটা খেলতে পারছে না। আমাদের ক্রিকেট অপারেশন্সের সঙ্গে ওদের আলাপ হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি লিমিটেড ওভার ম্যাচের সংখ্যা সে ক্ষেত্রে যেনো বাড়ানো হয়।’

২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত কেবল তিনটি টেস্ট খেলতে পেরেছে আয়ারল্যান্ড, যার একটি ছিল দেশের মাটিতে। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডিউট্রম জানিয়েছেন, আইসিসি থেকে তারা প্রত্যাশিত তহবিল পাচ্ছেন না। মালাহাইড ও অন্যান্য মাঠে অস্থায়ী কাঠামোর ব্যবস্থা করতে এবং ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজন করতে—সব মিলিয়ে যা খরচ, তারা সেটি কুলিয়ে উঠতে পারবেন না। এছাড়াও ২০২০ ও ২০২১ সালে পিঠা-পিঠি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বকে সামনে রেখে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তারা মনোযোগ দিতে চায় বেশি।

তবে আর্থিক সমস্যায় সীমিত ওভারের সব সিরিজও তারা আয়োজন করতে পারছে না। বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে রঙিন পোশাকের সিরিজ থাকলেও বাতিল করা হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল না। এটিও টেস্ট বাতিলের সিদ্ধান্তকে সহজ করেছে কিছুটা। সেই সঙ্গে সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় তার প্রস্তুতি হিসেবে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগটাও নষ্ট করতে চায় না বিসিবি।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ছাড়াও আইসিসির ভবিষ্যত্ সফরসূচিতে আগামী বছর বাংলাদেশের টেস্ট আছে পাকিস্তানে দুইটি, দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুইটি, শ্রীলঙ্কা সফরে তিনটি ও দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি।