নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম

মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে গণমাধ্যম। এছাড়া বেইজিং কর্মপরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়, প্রজন্ম নির্বিশেষে কাউকে পিছনে ফেলে না রেখে নারী-পুরুষের সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার ২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরো বলেন, সারা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। আজও দেশে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত হয়নি। পৃথিবীর সব দেশেই নারীশ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার।

সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এনগেজ মেন এন্ড বয়েজ নেটওয়ার্কের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ১২টি প্রতিবন্ধকতা নিরসনে একাধিক সুপারিশ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ নারী সম্মেলন। জাতিসংঘের ১৮৭টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী নীতিমালা ঘোষণা করে। ২০১৩ সালে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। আগামী বছর বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ২৫ বছর। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভাগীয় শহর ছাড়াও দুটি জেলাতে বেইজিং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যালোচনার কাজ চলছে।

বেইজিং ঘোষণা ও ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. ফৌজিয়া মোসলেম রোকেয়া বলেন, এখনো নারীকে গণমাধ্যমে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর থেকে বেরিয়ে আসতে আইন প্রণয়ন ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানান তিনি। আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় বেইজিং ঘোষণার ২৫ বছর উপলক্ষ্যে জাতীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি ফারহানা জামান, ব্র্যাক এর প্রতিনিধি রাখী বেগম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।