চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) তার প্রশাসনিক সংস্কার এবং লাভজনক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। তাছাড়া কর্মকর্তাপর্যায়ে লোকবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে। সিডিএ কর্তৃক গত প্রায় ১০ বছর ধরে প্রকৌশলসহ কর্মকর্তা পর্যায়ে তেমন কোনো লোকবল নেয়া হয়নি। বরং কর্মচারীপর্যায়ে বিপুল সংখ্যককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে সিডিএতে অনুপাতিক হারে কর্মকর্তাদের চেয়ে কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। তাছাড়া বিগত কয়েক বছর ধরে সিডিএর লোভনীয় পদগুলোতে থাকা কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদে বহাল থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে বিগত চেয়ারম্যান তার পছন্দের কর্মকর্তাদের একাধিকবার ১০-১২ বছর পর্যন্ত রেখে দিয়েছেন, আর অপছন্দের অনেক প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো প্রকার দায়িত্ব না দিয়ে বসিয়ে রাখার নজির স্থাপন করেছেন। একাধিক কর্মকর্তাকে সিডিএ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে মামলা করে অনেকে আবার ফিরে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল করিম চাকুরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
অপরদিকে গুটিকয়েক প্রকৌশলীকে একাধিক প্রকল্পের পরিচালকসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গত প্রায় আট মাস আগে সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান আসার পর সিডিএ কর্তৃপক্ষ প্রকল্প গ্রহণে স্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে জবাবদিহিতা আনয়নসহ জনগণের স্বার্থে কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। জানা যায়, সিডিএর অনন্যা প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক লোককে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লট থাকা সত্ত্বেত্ত অনন্যা প্রকল্পে প্লট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিগত সময় নগরীতে যত্রতত্র গড়েওঠা ভবন ও স্থাপনা উচ্ছেদ কিংবা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অভিযান দেখা যায়নি। ফলে নগরীতে অসংখ্য বহুতল ভবন রয়েছে, যা সিডিএ থেকে নেয়া নকশার সঙ্গে কোনো মিল নেই। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ উচ্ছেদে সাহস পায় না।
এদিকে এরই মধ্যে প্ল্যান প্রদান অনিয়মের অভিযোগে এক অথরাইজড অফিসারের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে নগরীতে বিভিন্ন খালের জায়গা দখল করে নির্মিত ভবন ও স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছে। মূলত: সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় উচ্ছেদ কাজ সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
গত ১০-১২ বছর ধরে সিডিএ কর্তৃক নগরীতে কোনো আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। অথচ ইতিপূর্ব আবাসন প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত স্থানসমূহে সিডিএ কর্তৃক কোনো প্ল্যানও দেয়া হচ্ছে না। সিডিএ এর পক্ষ থেকে ঐসব স্থানে দ্রুত আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। সে সময় প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেড়গুণ দিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এতে প্রকল্প ব্যয় যেমন বাড়বে, একই সাথে জনগণকে উচ্চমূল্যে প্লট কিনতে হবে।
প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানান, সিডিএ প্রথমে অনন্যা দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রকল্পের ব্যাপারেও উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।