মুন সিনেমা না পেলেও পেলেন শতকোটি টাকা

মুন সিনেমা হলের সম্পত্তি ফেরত চেয়ে মার্শাল ল’ রেগুলেশন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলেন হাইকোর্টে। এক যুগেরও বেশি সময় আগে পেয়েছিলেন রায়। ঐ রায়ের আলোকে আট বছর আগে হয়েছিল সংবিধান সংশোধন। কিন্তু সম্পত্তির পরিবর্তে এক যুগেরও বেশি সময় পর পেলেন শত কোটি টাকার চেক। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এসে নিজ হাতে সেই চেক গ্রহণ করলেন বাংলাদেশ ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাকসুদুল আলম। চেক প্রদানের পর ঐ সম্পত্তির ডিক্লারেশন রেজিস্ট্রেশন দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছে আপিল            বিভাগ। রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলে জমির মালিকানা যাবে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নামে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। একইসঙ্গে আগামী ৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত। আদালত থেকে বেরিয়ে মাকসুদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সম্পত্তির পরিবর্তে আমার তো ডিমান্ড ছিল অনেক। কিন্তু পেলাম মাত্র ৯৯ কোটি টাকা। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে আমার ক্লায়েন্টের আইনি লড়াই শুরু হয়। ভালো লাগছে জীবদ্দশায় ক্লায়েন্ট টাকাটা পেলেন।  

মোশতাক, সায়েম ও জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ অবৈধ

মুন সিনেমা হলের মালিকানা সংক্রান্ত রিট মামলায় ২০০৫ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ সংবিধানবহির্ভূত এবং বেআইনি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে ঐ রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১১ সালে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনয়ন করে। রিট মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন হলেও মাকসুদুল আলম সম্পত্তি ফিরে পাননি। কারণ হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার আগে ২০০১ সালের ২৪ জুন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানি বাবুলী কনস্ট্রাকশনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী হলের শূন্য দশমিক ৬২ একর জমিসহ বাবুলী কনস্ট্রাকশনের জমি মিলিয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয় বহুতল মুন শপিং কমপ্লেক্স। ফলে সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে বড়ো ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। পরে রিটকারী আপিল বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা করেন। ২০১৭ সালে ঐ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে আপিল বিভাগ সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণে কমিটি গঠন করে দেয়। কমিটির রিপোর্টে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, চেক হস্তান্তর হয়েছে। এখন দ্রুত ডিক্লারেশন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে দিতে হবে।