লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

মহান বিজয় দিবসের ৪৮ তম বার্ষিকী উদযাপনে ‘হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালি-ব্রিটিশদের অবদান’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন। ১৬ ডিসেম্বর পূর্ব লন্ডনের ইমেপ্রেস ইভেন্ট হলে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশি-ব্রিটিশদের অনন্য সাধারণ ভূমিকার ওপর যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিজয় দিবসের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী ছিল অন্যতম আকর্ষণ। 

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম অনুষ্ঠানে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি অতিথিদের কাছে এসব ছবির পটভূমি ও ইতিহাস তুলে ধরেন। আগত অতিথিরা গভীর আগ্রহ নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশি-ব্রিটিশরা লন্ডন ও বার্মিংহামসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে যেসব আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যেসব আলোচনা, সমাবেশ ও তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করেছিলেন সেসব ঐতিহাসিক ঘটনার ৫৭টি আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। 

   

এসব আলোকচিত্রের বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট ব্রিটিশ আলোকচিত্রী রজার গোয়েনের তোলা। রজার গোয়েন বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ও পরে বেশ কয়েক বছর ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন শহরে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন। যুক্তরাজ্যে Recognise Bangladesh Movement-এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। বেশ কিছু আলোকচিত্র নেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, বাংলাদেশি-ব্রিটিশ সাংবাদিক তানভীর আহমেদ ও  বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের সংগ্রহ থেকে। 

বিজয় দিবসের আলোচনাসভায় বক্তরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশি-ব্রিটিশদের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। 

হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, ‘বাঙ্গালি-ব্রিটিশ সংগঠকরা যুক্তরাজ্য থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ে Recognise Bangladesh Movement সহ বিভিন্ন আন্দোলন করে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘আজকের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। আশা করি এ আলোকচিত্র প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-ব্রিটিশদের সামনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও এক্ষেত্রে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের ভূমিকা তুলে ধরতে সহায়ক হবে।’

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণকে সহযোগিতা করতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-লর্ড মেয়র অব ওয়েস্ট মিনিস্টার রুথ বুশ, নিউহ্যামের মেয়র রুকশানা ফিয়াজ, বেরনেস পলা উদ্দিন, স্টিফেন টিমস এমপি, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার চরনজিত সিং, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জালাল উদ্দিন, নিউহ্যামের ডেপুটি ল্যাফটেনেন্ট জন বারবার ও ল্যাফটেনেন্ট মেই সীম লেই এবং কর্নেল মার্ক হাম। 

আলোচনার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে বাংলাদেশি-ব্রিটিশ শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি প্রায় আটশ অতিথি-দর্শক উপভোগ করেন। এদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও অন্যান্য শ্রেণি ও পেশার ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাই মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

এদিন সকালে হাইকমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।

ইত্তেফাক/এএএম