হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
রাঙ্গুনিয়ায় ইটের ভাটায় ইট তৈরির প্রক্রিয়ায় কয়লার বদলে পোড়ানো হচ্ছে নিষিদ্ধ জ্বালানি কাঠ। এলাকায় এখন একযোগে প্রায় ১০০ ইটেরভাটায় পোড়ানো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর ইট ভাটার চিমনিতে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বায়ু দূষণ হচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ইসলামপুর, রাজানগর ও দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে ইটের ভাটার সংখ্যা বেশি। এই তিন ইউনিয়নে ইট ভাটার সংখ্যা ৫০টি। লোকালয়, ধানি জমি এবং পাহাড় ও বনাঞ্চলের পাশে বিধিবহির্ভূতভাবে ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ সৈয়দ জানান, কয়লা জ্বালানোর নিয়ম থাকলেও ইট ভাটাগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। এতে কালো ধোঁয়ায় এলাকা ছেয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া পাহাড় কেটে অনেক ভাটায় ইট তৈরিতে মাটির যোগান দেওয়া হচ্ছে। ফলে বায়ু দূষণ ছাড়াও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
কোদালা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম তালুকদার জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের স্বাভাবিক দূরত্ব ছাড় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে বহু ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ। নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় অপরিকল্পিত কার্যক্রমের প্রভাবে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় জানান, রাঙ্গুনিয়া নয়, কাপ্তাই ও রাজস্থলী বনাঞ্চল থেকে রাঙ্গুনিয়ার ইট ভাটাগুলোতে কাঠ পাচার হচ্ছে। কাঠ পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বন বিভাগ সক্রিয় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকর বায়ু দূষণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এ ব্যাপারে পরিবেশ বিভাগের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।