বিনষ্ট হচ্ছে ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কুমিল্লা ডিপোতে বিনষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বাসের ইঞ্জিন, চাকা, চেসিস, বডিসহ যন্ত্রাংশ। ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি আর ডিপোর অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত স্থান ও ঝোপের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ভাঙা কয়েকটি আসনসহ দীর্ঘ বছর ধরে পড়ে আছে অন্তত ৩০টি বাসের খোলস। অচল বাসগুলোর ছাদ, দরজা-জানালা আগাছা ও লতাগুল্মে ছেয়ে আছে। ঝোপঝাড়ে বেষ্টিত এসব অচল বাস যেন দিন দিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ বডি নিয়ে পড়ে থাকা এসব বাসের অধিকাংশের মূল্যবান যন্ত্রাংশের হদিস নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি ও অবহেলায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন সড়কের পাশে বিস্তৃত স্থান জুড়ে অবস্থিত কুমিল্লা বিআরটিসি ডিপো। এখানে কুমিল্লা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিআরটিসির এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) ও ননএসি অর্ধশতাধিক বাস রয়েছে। কুমিল্লায় যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে ইতিপূর্বে সরকার এই ডিপোতে ১৪টি এসি বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে লক্কড়ঝক্কড় হয়ে পড়েছে ননএসি বাসগুলো। এতে প্রায় সময়ই বাসগুলো সড়কে বিকল হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবহন সংকটের কারণে বিআরটিসির কয়েকটি বাস চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহন করে থাকে। জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিআরটিসি ডিপোতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০টির বেশি বাস পড়ে আছে। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা বাসগুলোর ছাদে, ভেতরে ও চারপাশে আগাছা-পরগাছা ও লতাগুল্মে ছেয়ে আছে। ঝোপঝাড়ে বেষ্টিত এসব বাস দিনে দিনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিলামের মাধ্যমে বিক্রি না করার কারণে ধুলাবালু আর ময়লা-আবর্জনায় মরিচা পড়ে বাসের চাকা, দরজা-জানালা, আসন ও ইঞ্জিনসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ বিনষ্ট হয়ে পড়েছে। এছাড়া বেশকিছু অকেজো বাসের ইঞ্জিন, চেসিসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কে বা কারা খুলে নেওয়ায় শুধু খোলস পড়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপোতে কর্মরত একজন কর্মচারী জানান, একনজরে ডিপোর আশপাশ অনেকটা পুরোনো বাসের ডাম্পিং কিংবা ধ্বংসস্তূপের মতো মনে হবে। এই ডিপোর বিকল বাসের মূল্যবান পার্টস খুলে পুরাতন পার্টস ক্রয় করা দোকানি/মেকানিকের নিকট বিক্রি করে দেওয়া হয়। এদিকে বিআরটিসি ডিপোর পার্শ্বস্থ কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন সড়কের দুই পাশে গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান, গ্যারেজ এবং নতুন-পুরাতন পার্টস বিকিকিনির শতাধিক দোকান রয়েছে। এসব দোকানে হাত বাড়ালেই মেলে বাসের পুরাতন যন্ত্রাংশ। অন্তত চার জন দোকানি ও তিন জন মোটর মেকানিকের সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফেলে রাখা অচল বাসের অনেক মূল্যবান পার্টস আছে, যা অকেজো নয়। এসব পার্টস সংশ্লিষ্টরা যোগসাজশে গোপনে বিক্রি করে দেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিসি কুমিল্লা ডিপো ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিআরটিসি চেয়ারম্যান স্যারের অনুমতি ছাড়া কোনো গণমাধ্যমের সাংবাদিককে ডিপোর অভ্যন্তরে প্রবেশ, ছবি তোলা ও ডিপোসংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না।’ বিআরটিসি জেনারেল ম্যানেজার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, দেশের যেসব জেলায় বিআরটিসি ডিপোতে নষ্ট এবং পরিত্যক্ত স্থানে জরাজীর্ণ অবস্থায় বাস পড়ে আছে সেগুলো অকশনের মাধ্যমে বিক্রি করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তবে ডিপোর বিষয়ে অভিযোগগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।