মির্জাপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো জরাজীর্ণ

রোগীদের চরম দুর্ভোগ

মীর আনোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মির্জাপুর উপজেলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও করুণ অবস্থা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে আজগানা, বাঁশতৈল ও গোড়াই ইউনিয়নের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রের ভবনগুলো মেরামত করার মতো উপযোগী নয়। নতুনভাবে ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। অর্থ বরাদ্দ পেলে ভবনগুলো দ্রুত নির্মাণ বা সংস্কার করা হবে।’

মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মির্জাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনগুলো করুণ ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের শেষ নেই বলে বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আলেয়া বেগম (৫৫), আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের হায়দার আলী মিয়াসহ (৫৭) অনেকেই অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজগানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, বাঁশতৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং গোড়াই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘদিন ধরে। ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বহুরিয়া, বানাইল, আনাইতারা, তরফপুর, বহনতলী ও জামুর্কি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রও জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিলটন বলেন, ‘এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় আট-নয় বছর। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর দিকে সুনজর না দেওয়ায় চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দা বা বিভিন্ন হাটবাজারের দোকানে স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিত্সাপত্র দিয়ে আসছেন।’

একই অবস্থা উপজেলার ধেরুয়া, ছাওয়ালী, ফতেপুর, আগৈত ও গলচড়া স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের।