ভৈরব নদের ওপর কাঙ্ক্ষিত সেতু অনুমোদন পেল একনেক সভায়

হিলি চেকপোস্ট

এনামুল হক, খুলনা অফিস

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছর পর নির্মাণ হচ্ছে খুলনার ভৈরব নদের ওপর কাঙ্ক্ষিত সেতু। ১ হাজার ৩১৬ দশমিক ৯৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সেতুটি নির্মাণ হলে খুলনা মহানগরী ও দিঘলিয়া উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মিলেছে স্বপ্নের এই সেতুর।

এদিকে, ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে খুলনা মহানগরীর গা ঘেঁষে অবস্থিত দিঘলিয়া উপজেলায় ছোটো-বড়ো হাজারো শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার সঙ্গে একটি কানেক্টিভিটি তৈরি হবে।        

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা নদীবেষ্টিত বদ্বীপ ও ইউনিয়নগুলো নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। তিনটি ইউনিয়ন ভৈরব নদের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত, দুটি ইউনিয়ন পশ্চিম পাড়ে এবং গাজীরহাট ইউনিয়ন আতাই নদী দ্বারা বিভক্ত। ফলে অধিকাংশ লোকের কর্মসংস্থান ও চাষাবাদের জন্য প্রতিনিয়ত পশ্চিম পাড়ে পারাপার হতে হয়। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএল কলেজ, দৌলতপুর ডে নাইট কলেজসহ শত শত শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার জন্য রোজ যাতায়াত করতে হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এসেছে এলাকাবাসী। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে।

সূত্র জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পের কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংশোধিত প্রকল্পটি (ডিপিপি) গত ২৭ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সম্মতির পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পে রয়েছে, ১ হাজার ৩১৬ দশমিক ৯৬ মিটার সেতু, এক কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড, দুই পাশে পাঁচ মিটার করে ১০ মিটার সার্ভিস রোড এবং ডিভাইডার।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণ হলে খুলনা মহানগরীর গা ঘেঁষে অবস্থিত দিঘলিয়া উপজেলায় ছোটো-বড়ো হাজারো শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এছাড়া ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠিত জুট মিলগুলো চাঙ্গা হবে। ফলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার সঙ্গে একটি কানেক্টিভিটি তৈরি হবে।        

খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। বিভিন্ন পরীক্ষার পর ভৈরব নদের পানি প্রবাহ ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতুর নকশায় বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নদী থেকে ৬০ ফুট উঁচুতে পিসি গার্ডার নকশায় সেতুটি নির্মিত হবে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাস বলেন, ভৈরব সেতু নির্মাণ হলে খুলনা মহানগরীর ওপর মানুষের চাপ কমে যাবে। নদীর ওপারে কল-কারখানা স্থাপনসহ বসতি বিকেন্দ্রীকরণ হবে।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, ভৈরব নদের ওপর সেতু নির্মাণে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। এই সেতু নির্মাণের ফলে শিল্পনগরী খুলনা উন্নয়নের রোল মডেলে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।