অভয়াশ্রম একটি, আয়তন ০.৫ হেক্টর
কামরুজ্জামান মুক্তা, বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
রংপুরের বদরগঞ্জে দেশি প্রজাতির নানা ধরনের মাছ বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অঞ্চলে প্রায় বিলুপ্তির পথে শিং, মাগুর, কৈ, মহাশোল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরাসহ নানা প্রজাতির মাছ। বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরী নদীতে মাছ ধরতে আসা উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আ. মালেক (৪৮) বলেন, ‘ছোটোবেলা থাকি হারা মাছ মারি, আগোত মাছের গন্ধোত বাড়িত থাকা গেছিল না। এলা আর মাছ পাওয়া যায় না’। উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, যমুনেশ্বরী, চিকলি, মরা তিস্তা, ঘিরনই ও গড়ডাঙ্গি নামে পাঁচটি নদী উপজেলাটিকে ঘিরে রেখেছে। নদীর মোট আয়তন ২৮ হেক্টর। অথচ মাছের জন্য অভয়াশ্রম রয়েছে মাত্র একটি, যার আয়তন ০.৫ হেক্টর। বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস, নদীসংশ্লিষ্ট খালবিলের গভীরতা কমে যাওয়া, নদী ভরাট করা, মা-মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবানালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, রাক্ষুসে মাছের চাষসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশীয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারণ।
সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, কারেন্ট জালের ব্যবহার, সেচ দিয়ে মাছ ধরা, বিষ প্রয়োগ, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, মত্স্যজীবীদের অসচেতনতা, নদীর আয়তন অনুযায়ী অভয়াশ্রমের আয়তন কম হওয়া ও বেশি বেশি মাছের অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ অঞ্চলে দেশীয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।