আমাদের বোধোদয় কবে হবে?

আব্দুস সালাম

বাংলাদেশে আগুন লাগা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দুর্ঘটনা, ২০১০ সালে ঢাকার নিমতলীর আগুনে মারা যায় ১২৪ জন, ২০১২ সালে তাজরিন ফ্যাশনে আগুনে মারা যায় ১১৩ জন, ২০১৮ সালে ঢাকার বউবাজার বস্তিতে আগুনে মারা গেছে ১১ জন, ২০১৯ সালে চকবাজার, বনানী টাওয়ার, বিভিন্ন বস্তি এলাকায় আগুন লেগে পুড়ে মারা গেছে কয়েক শত লোক, ধ্বংস হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এছাড়াও সম্প্রতি গাজীপুর ফ্যাশন কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় মারা গেছে ১০ জন। আগুন লাগার অসংখ্য ঘটনা নিত্য ঘটলেও বেড়েই চলছে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ। সহজভাবে অধিক লাভের ব্যবসায় মেতেছে লোভী মালিকেরা, স্থাপনায় সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নের তোয়াক্কা করছে না, রাখছে না ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার পথ। যার ফলে দুর্ঘটনা আর ক্ষতি দিনদিন দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঠেকিয়ে দিচ্ছে, বাধাগ্রস্ত করছে জনজীবনের নিরাপত্তা। একটি দুর্ঘটনার জন্য পরিবার পড়ছে দৈন্যের মাঝে, যার ভার দেশকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি হচ্ছে না। সচেতনতার অভাব আর সমন্বয়হীনতার ফলে ঠেকানো যাচ্ছে না এসব আগুন লাগা। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে বাধ্য করা, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, শিল্প, কলকারখানা ও সরকারি অফিস-আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ,  আগুন প্রতিরোধক ব্যবস্থায় আরো বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ও কর্মী বৃদ্ধি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার, বৈদ্যুতিক স্থাপনায় অধিক মজবুত ও টেকসই যন্ত্রপাতির ব্যবহার, অপরিকল্পিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুকুর খনন ইত্যাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে আগুন লাগা নামক দুর্ঘটনার পরিমাণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হ্রাস করা সম্ভব।

সর্বোপরি জনসাধারণের সচেতনতার মাধ্যমে অব্যবস্থাপনা দূর করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা চালু করলে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় এনে এসব প্রাণহানির ঘটনা কমানো সম্ভব। আর দুর্ঘটনা কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে যাতে প্রাণ বাঁচবে এবং দেশের সম্পদ রক্ষা হবে। আসবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উন্নতি, এগিয়ে যাবে দেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর