কুমিল্লার ফুটবলে উন্মাদনা ফেরাতে পারে মোহামেডান

নেয়ামত উল্লাহ

আসছে লিগ মৌসুমে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে ‘হোম ভেন্যু’ করার ব্যাপারে এগিয়েছে অনেক দূর। শেষমেশ কর্তৃপক্ষ থেকে যদি সবুজ বাতি পেয়েই যায় মোহামেডান, তবে সেটা কুমিল্লার ফুটবলে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করবে বলেই আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আগামী বছর। এ উপলক্ষ্যে বেশ ব্যস্ত থাকবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। সে ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘায়িত হতে পারে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল। সেটা এড়াতেই গেল আগস্টে লিগ কমিটির সভায় আসন্ন মৌসুমে ঢাকার বাইরে আরো বেশি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘হোম’ ভেন্যু বাছাইয়ে দলগুলোকে নরসিংদীর মুসলেহ উদ্দীন ভুঁইয়া স্টেডিয়াম ও কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সে অনুসারে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের পছন্দ কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম। সম্প্রতি পুনর্নিমিত স্টেডিয়ামটি পরিদর্শনে গত ১০ ডিসেম্বর কুমিল্লায় যায় মোহামেডানের প্রতিনিধিদল। মাঠের অবস্থা, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা, আবাসন ব্যবস্থা, গ্যালারির ধারণক্ষমতা, প্রেসবক্সের অবস্থা পরখ করাই ছিল উদ্দেশ্য। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য দেলোয়ার হোসেন জাকির দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, প্রায় ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই কুমিল্লা ছাড়ে প্রতিনিধিদলটি। এখন কেবল চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাবার অপেক্ষা।

ধর্মসাগর পাড়ের এই স্টেডিয়ামটি এর আগে কখনোই ফুটবল লিগে কোনো ম্যাচ আয়োজন করেনি। প্রথমবারের মতো আয়োজক হবার দুয়ারে দাঁড়িয়ে তাই সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, কুমিল্লার ফুটবলেও নতুন যুগের হাওয়া লাগবে এর ফলে।

একটা সময় কুমিল্লার ছেলে গোলাম সারওয়ার টিপু, বাদল রায়, প্রণব কুমার দে, আশরাফ চৌধুরীরা ঢাকার ফুটবল মাতিয়েছেন। বিপ্লব ভট্টাচার্য তো জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সংখ্যাটা বেশ নগণ্য। তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল নেই, জেলা লিগও খুবই কম সময়ের গণ্ডি নিয়ে হচ্ছে। খেলোয়াড় কমে যাওয়া এরই ফল।

তবে মোহামেডানের এই উদ্যোগ এ অবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে, অভিমত সাবেক ফুটবলার প্রণব কুমার দের। তিনি বলেন, ‘মোহামেডানের মতো দল কুমিল্লায় এসে খেললে তার একটা প্রভাব নিশ্চিতভাবেই থাকবে। দর্শকরা আগ্রহ ফিরে পাবে। উঠতি খেলোয়াড়রাও উদ্দীপনা পাবে। সংগঠকরাও এর ফলে নতুন উদ্যমে কাজ করার আগ্রহ ফিরে পেতে পারে।’

লিগ কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপিও জানালেন মোহামেডান চাইলে আপত্তি নেই লিগ কমিটির। তবে সেক্ষেত্রে সব ধরনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সক্ষম হতে হবে ভেন্যুটিকে।

বাফুফের সহসভাপতি ও মোহামেডান ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাদল রায় জানালেন ব্যাপারটা এখনো প্রতিক্রিয়াধীন। তবে শেষমেশ মোহামেডান ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামকে হোম হিসেবে নিয়েই নেয় সে ক্ষেত্রে লাভটা হবে কুমিল্লার ফুটবলেরই, অভিমত কুমিল্লার সাবেক ফুটবলার বাদলের।

ইত্তেফাককে তিনি বলেন, যদি কুমিল্লা মোহামেডানের হোম হয়, সে ক্ষত্রে তো শুধু মোহামেডানই এখানে খেলতে আসবে না; আবাহনী, বসুন্ধরা, শেখ জামাল, শেখ রাসেলের মতো দলও আসবে। সেটা এখানকার ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে। লাভটা এখানকার ফুটবলেরই হবে।’