শোচনীয় হারে লিভারপুলের বিদায়

লিগ কাপ

স্পোর্টস ডেস্ক

সূচিটাই এমন ছিল যে, লিগ কাপ আর ক্লাব বিশ্বকাপের মধ্যে যে কোনো একটাকে বেছে নিতে হতো লিভারপুলকে। অল রেডরা করেছেও সেটাই। ১৯ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্লাব বিশ্বকাপে পূর্ণশক্তির দল খেলানোয় লিগ কাপে আনকোরা দল নামাতে হয়েছিল তাদের। ফলটাও হলো তেমনই। অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৫-০ ব্যবধানে হেরে লিগ কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইউরোপসেরা দলটিকে।

অনভিজ্ঞ লিভারপুলের শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ১৪ আর ১৭ মিনিটে দুটো গোল হজম করার পর ৩৭ আর ৪৫ মিনিটে অ্যাস্টনের  জোনাথন কোদিজা জোড়া গোল করলে চার গোলে পিছিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে অল রেডরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ‘উন্নতি’ করেছিল দলটি। যোগ করা সময়ে গোল হজম না করলে ‘ক্লিনশিট’ই পেয়ে যেত তারা। সেটা না হওয়ায় শেষ দুই বছরের সবচেয়ে বড়ো হারটা নিয়ে মাঠ ছাড়ে অল রেডরা। আর সাত বছর পর লিগ কাপের ফাইনালে ওঠে অ্যাস্টন ভিলা।

তবে হার সত্ত্বেও দলটির পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে ম্যাচে দলটির কোচ নেইল ক্রিশলিকে? ২০ ছুঁইছুঁই গড় বয়সের দল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগপর্যায়ের দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়! ক্রিশলি বলেন, ‘ছেলেরা শতভাগই ঢেলে দিয়েছে। এমন পারফরম্যান্সে আমি মুগ্ধ।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় বড়ো সময় ধরে ভালোই খেলেছি আমরা। শুরুটাও ভালো হয়েছিল। প্রথম ১২-১৩ মিনিট আমরাই ছিলাম শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ। তারপর দূরপাল্লার ফ্রিকিক থেকে গোল হজম করলাম যেটায় আরো ভালো কাজ করা যেত। পরের গোলটা এলো আমার খেলোয়াড়ের গা ছুঁয়ে এক নিষ্ঠুর বাঁকবদল নিয়ে। পরে ‘কীভাবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লাম এটা ভেবেই খেলতে হয়েছে।’

বিরতির সময়ে প্রধান কোচ ক্লপও কাতার থেকে দলকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, জানালেন ক্রিশলি। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ম্যানেজার থেকে বিরতির সময়ে কিছু তথ্য পেয়েছিলাম। আমাদের আরো সাহসী হওয়ার প্রেরণা দিয়েছিলেন তিনি। কোচ কাতারে থেকেও আমাদের দেখছিলেন। আমি নিশ্চিত এমন পারফরম্যান্স তাকেও গর্বিত করবে।

তবে নিজের কাজটা করতে গত রাতেই মাঠে নামতে হয়েছে ‘আসল’ লিভারপুলকে। ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেক্সিকান দল মন্তেরির বিপক্ষে খেলতে হয়েছে তাদের। ম্যাচটি জিতে থাকলে শনিবার রাতে ব্রাজিলীয় দল ফ্ল্যামেঙ্গোর মুখোমুখি হবে অল রেডরা।