আল জাজিরা ও রয়টার্স
সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিমে সিরীয় সরকারি বাহিনী ও রুশ বিমান হামলায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার যেসব এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে তার মধ্যে ইদলিব রয়েছে। ঐ প্রদেশেই নতুন করে মঙ্গলবার একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া ও সরকারি বাহিনী। সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র আহমেদ শেইখু বলেছেন, বিমান হামলায় তাল মান্নিস শহরে ৯ জন, বিদামায় ছয় জন ও মাসারানে ছয় জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আল কান্নিস ও মার শামশাহেও একজন করে নিহত হয়েছে। বিদামায় নিহতদের মধ্যে সিভিল ডিফেন্সের এক স্বেচ্ছাসেবকের স্ত্রী ও তিন সন্তানও রয়েছে। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রাম মাসারানের একটি বাজারেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠন সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার মারেত আল নুমান জেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ও শহর লক্ষ্য করে এসব বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার পর ব্যাপক সংখ্যক মানুষ সেখান থেকে তুরস্ক সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই এলাকাগুলোতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও তাদের রাশিয়ান মিত্রদের চালানো অভিযানের বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন করেনি সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরীয় গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় চার লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেশটির গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রধান সমর্থক রাশিয়া ও ইরান। অপরদিকে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের কথা বলে সেখানে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালে রাশিয়া বাশার আল আসাদের পক্ষ হয়ে দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টে যায়। সিরিয়ার একের পর এক এলাকা আসাদ অনুগত সরকারি বাহিনীর পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। এর ফলে দেশটির বিদ্রোহী অধিকৃত বহু এলাকার লোকজন পালিয়ে ইদলিবে চলে আসে। বর্তমানে সিরিয়ার শুধু ইদলিবই কট্টরপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটি পুনরুদ্ধার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।