ওরা পুলিশ পরিচয়ে হাতিয়ে নেয় পুলিশের টাকা

পিনাকি দাসগুপ্ত

জেলা শহর দিনাজপুরের ছেলে রিফাত আহমেদ ওরফে রুবন। শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পড়াশুনা স্থানীয় কলেজে। বন্ধুদের সহায়তায় শুরু করে সাইবার অপরাধ। ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে প্রথমে স্থানীয় পর্যায় বিভিন্ন জনকে প্রতারণা করে টাকা আদায়। আস্তে আস্তে ক্ষেত্র বাড়াতে থাকে। বাড়ে প্রতারণার টাকার পরিমাণও। সিদ্ধান্ত নেয় নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাজানো। যা ভাবা, তাই শুরু। সিআইডি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রেফতারকৃত রিফাত। গত ১৪ ডিসেম্বর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি বিশেষ টিম দিনাজপুরে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার অ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে মনিটরিং টিম বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সাইবার মনিটরিং করা কালে দেখতে পায় যে, ফেসবুকে ‘রিফাত আহমেদ’ নামক আইডির প্রোফাইল এবং কভার পিকচারে পুলিশের ছবি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য তার ব্যবহূত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিচ্ছে এবং নিজেকে ফেসবুকে কাউন্টার টেররিজম এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং সিআইডির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। বিষয়টি সাইবার মনিটরিং টিম পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। ইতিমধ্যে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার কর্তৃক পরিচালিত সাইবার পুলিশ সেন্টারে, বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজে বেশ কিছু ব্যক্তি উক্ত আইডি (রিফাত আহমেদ) সম্পর্কে অভিযোগ করে। কারণ রিফাত আহমেদ নামক ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজেকে পুলিশের এডিসি পরিচয় দিয়ে তাদের ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য তাদের রকেট অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ১০-২০ হাজার টাকা গ্রহণ করছে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ঐ অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার মনিটরিং এবং সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম রিফাত আহমেদ নামক ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য উদ্ঘাটনের কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের টিম জানতে পারে যে, দিনাজপুর জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে বসে রিফাত আহমেদ নামক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আইডিটি পরিচালনা করছে। পরবর্তী সময়ে সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি বিশেষ টিম রিফাত আহমেদকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত জানায়, যে বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায় ২০-৩০ জনের কাছ থেকে কখনো পুলিশের এডিসি আবার কখনো ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে আসছে।

অপর দিকে রিফাত আহমেদ ওরফে রুবনের চেয়ে একধাপ এগিয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ছোটো পারুলিয়া গ্রামের সোহাগ মাহমুদ বাপ্পী ওরফে রনি। বগুড়া জেলা পুলিশ ১৬ ডিসেম্বর পারুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বগুড়া সাইবার পুলিশের পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, রনি গত ২৮ অক্টোবর নিজেকে বগুড়া জেলার আলফা-১ (পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা) পরিচয় দিয়ে পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আরআইকে ফোন দিয়ে জরুরি প্রয়োজনের জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সত্য উদ্ঘাটিত হলে ঐ দিনেই বগুড়া সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন কোম্পানির ১১টি সিমকার্ডসহ বিভিন্ন মডেলের সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। রনি নিজেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।