রিক্রুটিং এজেন্সিকে আইনের আওতায় নিয়ে এলে বন্ধ হবে হয়রানি

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের সেমিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে এলে অভিবাসনসংক্রান্ত হয়রানি বন্ধ হবে। এছাড়া কোনোভাবেই অদক্ষ নারী শ্রমিক বিদেশে পাঠানো যাবে না। যেহেতু গৃহকাজে যুক্ত অভিবাসী নারীরা ঝুঁকিতে থাকে, তাই নারীদের গৃহশ্রমিক হিসেবে না পাঠিয়ে মর্যাদাপূর্ণ কাজে দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো হলে প্রবাসে নারী শ্রমিকরা হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকের অবস্থা : আইন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে কর্মজীবী নারী। সেমিনারে এক নারীশ্রমিক বলেন, ‘আমরা বিদেশে যেতে চাই, বৈদেশিক মুদ্রাও দেশে আনতে চাই, তবে এজন্য আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে, জীবনমানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে না পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করে পাঠানোর ওপর জোর দেন। সেইসঙ্গে যেহেতু গৃহকাজে যুক্ত অভিবাসী নারী বেশি ঝুঁকিতে থাকে তাই কোনো নারীকে গৃহশ্রমিক হিসেবে না পাঠিয়ে মর্যাদাপূর্ণ কাজে দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর পক্ষে মত দেন তিনি। এই বিষয়ে একটি জাতীয় সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করারও সুপারিশ করেন তিনি। তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে এলে অভিবাসনসংক্রান্ত হয়রানি বন্ধ হবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, অবশ্যই আমাদের নারীরা বিদেশে যাবে। তবে তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় উভয় দেশেরই দায়িত্ব থাকতে হবে  আন্তর্জাতিক বিধিবিধান মেনে চলার। সেইসঙ্গে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে তাদের জন্য দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আবাসনের সুযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্মানিত আলোচকরা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর লেবার উইংগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২’ ও ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩’ দুইটি আইনের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

সেমিনারে সুপারিশ জানানো হয় যে—অভিবাসী শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক নীতি বা সনদ, চুক্তি অনুসরণ করে, সব রাষ্ট্রকে অভিবাসী শ্রমিক পাঠানোর সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। সরকারিভাবে একটি প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে যেন তৃণমূল পর্যায়ে প্রত্যেকে নিরাপদ ও অবাধ অভিবাসন সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে যেতে পারে, যাতে করে নিয়োগকর্তা অবশ্যই অভিবাসী শ্রমিকের জন্য একটি ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করবে যেখানে গন্তব্য দেশের শ্রম-আইন ও শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে বিশদভাবে জানাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের যে সব রিক্রুটিং এজেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি-প্রলোভন দিয়ে নারীশ্রমিকদের প্রেরণ করেছেন তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিকের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি উম্মে হাসান ঝলমলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক। এছাড়া সেমিনারে আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট (এটর্নি) ড. উত্তম কুমার দাস, ডেভকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ইমাম ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সারওয়াত বিনতে ইসলাম। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্মজীবী নারীর পরিচালক রাহেলা রব্বানী।