সিংগাইরে নিয়ম উপেক্ষা করে চলছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল

এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ না

থাকলেও অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও বেতনসহ বিভিন্ন কায়দায়

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ

আদায় করা হচ্ছে

g  মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে সরকারি কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুসরণ না করেই একের পর এক এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক সামান্য বেতনে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পাশ বেকার কিছু নারী-পুরুষ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে কামাই করছেন লাখ লাখ টাকা। এখানে শিক্ষার সঠিক পরিবেশ না থাকলেও গলাকাটা ব্যবসার কারণেই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠছে এই প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও বেতনসহ বিভিন্ন কায়দায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রাইভেট ও কোচিং করা হয়েছে বাধ্যতামূলক। না করলেই শিক্ষার্থীদের নম্বর কম এবং দুর্ব্যবহার করা হয়। এত খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে দরিদ্র পরিবারের লোকেরা। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবী। তারা বেতন ভাতা ভোগ করেন সরকারের কাছ থেকে। অথচ এখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসার স্বার্থে।

নিয়ম রয়েছে, কিন্ডারগার্টেন, কেজি স্কুল কিংবা যে কোনো নামই হোক প্রথম শর্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি থাকতে হবে।  শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ, ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক এবং  বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ধরনের বিভিন্ন  শর্ত পূরণের পর একাডেমিক স্বীকৃতি লাভের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করতে হবে। শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি কিন্ডারগার্টেন সরেজমিনে তদন্ত করে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দিলেই প্রতিষ্ঠানগুলো একাডেমিক স্বীকৃতি পাবে। কিন্তু এখানে তা নেই। অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন ভাড়া বাড়িতে হওয়ায় ছোটো পরিসরে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের বসতে হয়। স্কুলের সামনে জলাবদ্ধতা, শ্রেণি কক্ষে ভ্যাপসা গরম, বিশুদ্ধ পানির অভাব, মশার কামড় আর নোংরা পরিবেশ রয়েছে। পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধা কম হলেও শিক্ষার্থীদের বেতন অনেক বেশি। স্কুলগুলো সরকার নির্ধারিত পাঠ্য পুস্তক ছাড়াও প্লে গ্রুপ থেকে ৫ম কিংবা ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত আরো ৭/৮ টি পাঠ্য পুস্তক অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদনহীন। এসব বইয়ের অস্বাভাবিক মূল্য, নিম্নমানের এবং ভুল তথ্যসমৃদ্ধ। এসব বই পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ডোনেশন বাণিজ্য করে থাকে প্রকাশকদের কাছ থেকে। বই, স্কুল ড্রেস ও খাতা কলম থেকে শুরু করে সমস্ত শিক্ষাউপকরণ এখান থেকেই বেশি দামে কিনতে হয়। এছাড়া গাইড বাধ্যতামূলক। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নামের আগে অধ্যক্ষ পদবি ব্যবহার করে থাকেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার জানান, নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এবং হাইস্কুলের কক্ষ ভাড়া করে ৩৪টি কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠেছে। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। হাইস্কুল কক্ষে ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে যেসব কেজি স্কুল গড়ে উঠেছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাদেরকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্যে। কিন্তু তারা সে নির্দেশ মানেনি। ফলে সরকারিভাবে বিনামূল্যে তাদের বই দেওয়া হবে না।

এদিকে উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুনের অভিযোগ, ৩৪টি স্কুলের যে তালিকা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। আরো স্কুল আছে যা তিনি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি। আবার তালিকায় পড়ে না এমন স্কুলকেও তালিকাভুক্ত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।