মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
এক্সরে মেশিন অচল, যন্ত্রপাতি ও অ্যানিস্থিশিয়া এবং অভিজ্ঞ চিকিত্সকের অভাবে জরুরি অপারেশন থিয়েটার বন্ধসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে দালাল চক্র ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ চক্রের কাছে জিম্মি সরকারি এই হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা আছমা বেগম, মাহবুব মিয়া ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত মির্জাপুর উপজেলার ৫ লাখ জনসাধারণের সরকারি চিকিত্সা সেবার একমাত্র ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সার্জারি, শিশু বিভাগ, মেডিসিন, অ্যানিস্থিশিয়া বিভাগে চিকিত্সক নেই দীর্ঘদিন ধরে। প্যাথলজি বিভাগ চালু থাকলেও জরুরি কোনো পরীক্ষা এখানে হয় না। এক্সরে মেশিন বিকল দীর্ঘদিন ধরে। গাইনী বিভাগের একজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে চিকিত্সাসেবা।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, দালাল চক্র, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের উত্পাত। চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের নানা প্রলোভন দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার জন্য টানাটানি করছে। কয়েক শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা চিকিত্সকদের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছেন। চিকিত্সক না থাকায় দেখাতে পারছেন না বলে রোগীরা অভিযোগ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুর রহমান বলেন, আমি অল্প কিছুদিন ধরে যোগদান করেছি। প্রশিক্ষণের জন্য দুই দিনের ছুটিতে আছি। আবাসিক চিকিত্সকসহ (আর এম ও) আরো পাঁচ জন চিকিত্সক ছুটিতে রয়েছে। এখানে প্রতিদিন আউটডোরে ৪০০-৪৫০ জন রোগী চিকিত্সা নেন এবং ৩০-৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান তিনি।
টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরিফ হোসেন খান বলেন, মির্জাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।