নারী নেতৃত্বই ভালো

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, শাসক হিসেবে নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালো। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল ও টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো

সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত কর্ণধারদের মধ্যে গুণাগুণ বিচারে নারী নেতৃত্ব যে শ্রেষ্ঠ তা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। একটানা ক্ষমতায় থাকা জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গোলা মার্কেল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের অন্যান্য নারী রাষ্ট্রনায়কদের দিকে তাকালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবার কথার সত্যতা মিলবে। তাছাড়া পাবলিক সার্ভিস কমিশন বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে—মেয়েরা বিসিএস পরীক্ষার বিভিন্ন মেধা তালিকায় এগিয়ে আছে। প্রশাসনিক সমীক্ষায় দেখা গেছে—প্রশাসক হিসেবে নারীরা অনেকটা দুর্নীতি মুক্ত থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তত্পর। বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার নারীসদস্য ও প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

(ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী)

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

পুরুষদের চেয়ে নারীরা শাসক হিসেবে ভালো এটা পুরোপুরি সত্য নয়, আংশিক সত্য। কারণ ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই নারীদের মধ্যে অনেক নির্মম অত্যাচারি শাসক ছিলেন, নারীদের মধ্যে ক্লিওপেট্রা এর প্রকৃত উদাহরণ। আমরা যদি বর্তমানের দিকে তাকাই তাহলে মিয়ানমার শাসক অং সান সু চির কথা উল্লেখ করতে পারি। তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েও গণতন্ত্রের প্রতি এবং নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো আন্তরিকতার পরিচয় দেননি। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতেও তিনি মিথ্যা তথ্য এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অসত্য কথা বলেছেন।

মাখরাজ খান,

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।

 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেরিতে হলেও সত্য কথাটি  বলেছেন। শাসক হিসাবে নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালো বললে ভুল হবে, হাজার গুণে ভালো। নারীর মূল্যায়ন শুধু আমাদের হযরত মোহাম্মদ (সা.) দিয়েছিলেন। তাইতো তিনি তার মেয়েকে মা বলে সম্বোধন করেছিলেন। নারীরা যদি আরো সুযোগ-সুবিধা পেত, শুধু সাংসারিক কর্মকাণ্ডে নয়, সমগ্র ক্ষেত্রে নারীর জয়জয়কার হতো।

ডা. মো. জামিল রহমান,

গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

 

সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব। আর বারাক ওবামা বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের নারীরা যদি নেতৃত্বে আসেন তাহলে গোটা বিশ্ব এর সুফল ভোগ করত।  আমি বলব না যে সব নারী নিখুঁত কিংবা পারদর্শী। কিন্তু তারপরও বলব নারীরা নিঃসন্দেহে পুরুষের চেয়ে ভালো। পৃথিবীতে মানুষের পথচলা যদিও পুরুষের দ্বারা শুরু হয়েছিল কিন্তু নারীর অবর্তমানে তা পূর্ণতা পায়নি। আল্লাহ তার সৃষ্টির পূর্ণতার জন্য মহীয়সী নারী হাওয়াকে সৃষ্টি করেছিলেন। আজ সভ্যতার যে আগ্রগতি ও বিকাশ আমরা দেখতে পাচ্ছি তা নারীকে ছাড়া সম্ভব ছিল না। নারীকে পিছনে ফেলে পুরুষের পথচলা হবে মন্থর। রুদ্ধ হবে যত মহাকল্পনা ও পরিকল্পনার পথ। নারীকে ছাড়া সভ্যতার উন্নতি হতে পারে না।

মো. জিল্লুর রহমান

সতীশ সরকার রোড

গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

 

বর্তমান যুগে নারী নেতৃত্বই ভালো বলে আমরা মনে করি। কেননা নারী নেতৃত্বে রয়েছে স্বচ্ছতা, সততা কর্তব্যপরায়ণতা ও নিয়মানুবর্তিতা বিষয়গুলো দৃশ্যমান। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শাসক হিসেবে নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালো—যে উক্তিটি করেছেন তার সঙ্গে আমিও একমত। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে সেজন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।

মো. হানিফ মিয়া

মনেশ্বর লেন,

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

একজন নারীর প্রথম পরিচয় হলো তিনি একজন মা। আর বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই মায়ের সন্তানরাই অর্থাত্, এই নেতৃত্বগুলো সৃষ্টির পেছনে মা-ই প্রথম কারিগর। যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি তাগিদ থেকেই বলা হয়েছে, ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি উপহার দেব’। মায়ের পর স্ত্রী হিসেবে অর্ধাঙ্গী হয়ে পুরুষদের প্রেরণার উত্স হয়েও নারীই প্রধান শক্তি। সমৃদ্ধ বিশ্বগড়ার সংগ্রামে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের কথা অকপটে স্বীকার করে জাতীয় কবি বলেছেন, ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী; অর্ধেক তার নর।’ সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিশ্বে নারী সমাজ তাদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেই নিজ নিজ জাতি গঠনের মাধ্যমে বিশ্বকে নেতৃত্বের পথেই এগিয়ে চলছেন।

তৌহিদ বিল্লাহ

পলাশ, নরসিংদী।

 

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের ক্ষমতাধর সব নারীর তালিকায় ২৯তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ৪০তম অবস্থানে আছেন ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। সুতরাং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শাসক হিসেবে নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালো বলে যে মন্তব্য করেছেন তা ভুল নয়।

করিম

রিসোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক),

ধানমন্ডি, ঢাকা।

 

 

নারী নেতৃত্ব সবসময়ই প্রশংসনীয় রয়েছে। ‘সম্প্রতি ব্রিটেনের সাময়িক নির্বাচনে সবচেয়ে বেশির ভাগ প্রার্থী জয়লাভ করেছে নারী। বিরোধী লেবার পার্টি ধরাশায়ী হলেও দলটির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতার কথা বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত ৪ নারী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। এর অন্যান্য কারণ ৪ বার অধিষ্ঠিত বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার কর্তব্য পরায়ণ ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে দেশ।

মো. মিজানুর রহমান প্রধান,

৫নং বাউশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান,

থানা :গজারিয়া, জেলা :মুন্সীগঞ্জ

 

আমার আজও মনে আছে, ২০১৪ সকালেও বিশ্ব নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছিলেন, দুই জন রাজনৈতিক নেত্রী যখন রাজনৈতিক বিতর্ক কিংবা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তখন লোকে বলে ‘দুই মহিলার ঝগড়া’। অথচ একই কাজ দুই জন পুরুষ রাজনীতিবিদ করলে সেটিকে কেউ ‘দুই জন পুরুষ মানুষের ঝগড়া বলে উপহাস করে না!’ একজন নারী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে থেকেও নারীর প্রতি পুরুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আক্রমণ থেকে রেহাই পান না আমাদের মতো নারীর কথা না হয় বাদই দিলাম! তাই একজন নারী হয়েও আমি হলফ করে বলতে পারছি না যে, পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারী নেতৃত্বই ভালো! সবার আগে আমাদের নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে বলে আমার কাছে মনেহয়...

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

ব্রিটেনের সংসদে বাংলাদেশি চার নারী। তার মধ্যে ৩৭ বছর বয়সি টিউলিপ সিদ্দিককে পারিবারিক রাজনৈতিক কারণেই অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বটে। তাই নারী নেতৃত্বই ভালো। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উক্তিটি সার্থক বটে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

সৃষ্টির যা কিছু মহীয়ান অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। সৃষ্টির তথা আদিযুগ থেকে বিভিন্ন শাসকদের পাশে তাদের স্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলে তার পত্নী বেগম নূরজাহান সব সময় ক্ষমতায়নে সহযোগিতা করেছেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে দেবী চৌধুরী রাণী, বীরাঙ্গনা সখিনা, প্রীতিলতা সেন তারা আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। নারীদের ক্ষমতায়নে প্রথম শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন মাভই বন্দরনায়েক, এরপর ভারতের স্বর্গীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। বাংলাদেশের স্বৈরশাসকের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এর পর বর্তমানে জাতির পিতার যোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর পর তিন বার সর্বমোট চার বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায়নে অধিষ্ঠিত হন। তার মন্ত্রিসভার এককালের অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, ডা. দীপু মনি এখন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব করছেন।

খন্দকার কামরুজ্জামান

৬৬/১০, উত্তর পীরেরবাগ,

মিরপুর,

ঢাকা।

 

নারীর শাসন এখন আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে, এটা ঠিক কথা। জাতিসংঘ মানব উন্নয়নে সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপালকে পেছনে ফেলে আরো একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব পরিসরে ১৩৫তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। এসব সম্ভব হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। সুতরাং নারী নেতৃত্বই ভালো ও শাসক হিসেবে নারীরা পুরুষের চেয়ে ভালো বলে যে উক্তি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-তা যথার্থ ঠিক বলেছেন।

খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান

সম্পাদক প্রকাশক

তারা নিউজ বিডি, ঢাকা

 

নারী নেতৃত্বই বর্তমান যুগে প্রশংসনীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশ থেকে। বাংলাদেশেও সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। উন্নয়নের রোলমডেলের দিকে দেশ এগিয়ে আজ। ফোর্বস বলেছে, রাজনীতি, ব্যবসা, বিত্ত, গণমাধ্যম, এনজিও এবং প্রযুক্তিখাতে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে ১০০ জনের নারীরা আছেন। সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত জোরালো। বারাক ওবামার বক্তব্যটি একেবারেই ঠিক।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা

 

আমাদের দেশের নারী রাজনীতিকরা নারীর ক্ষমতা এবং মর্যাদার প্রশ্নে কি আন্তরিক? কমপক্ষে আমার কাছে তা মনে হয় না! বাংলাদেশের দুই বড়ো রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষ নেত্রীর কথা এবং কাজ যদি ব্যাখ্যা করি, নারীর অধিকার এবং মর্যাদা বিষয়ে তাদের অসচেতন বলেই মনে হয়। তারা উভয়ে নিজ নিজ দলকে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ধরে রাখা কিংবা রাষ্ট্র ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য সব মহলের সমর্থন চান। হেফাজতে ইসলামীর বয়োবৃদ্ধ নেতা যিনি নারীকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করে এখন তেঁতুলহুজুর বলে পরিচিতি পেয়েছেন। স্বয়ং তাকেই বেগম খালেদা জিয়ার প্রশ্রয় দেওয়া আমরা তো ভুলিনি! সে সময় একজন নারী হিসেবে বেগম জিয়া কি হেফাজতের ১৩ দফা সমর্থন করেছিলেন? বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হেফাজতিদের আশ্বস্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগ কোরআন-সুন্নাবিরোধী কোনো আইন দেশে প্রণয়ন করবে না। সেই বিবেচনায় বলতে পারি, আমাদের দেশের নারী নেত্রীরাই নারীর অধিকার প্রশ্নে নারীবান্ধব নয়! তাহলে কী করে বলবো যে, নারী নেতৃত্বই ভালো?

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।