আবুল কাসেম ভূঁইয়া
কৃষিক্ষেত্রে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষিজাত পণ্যের উত্পাদন বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের কৃষি বিভাগ এবং বেশ কিছু উত্সাহী কৃষক নিত্যনতুন কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনে এগিয়ে আসছেন। উচ্চ মূল্যের মসলা দারুচিনি উত্পাদনের ব্যাপারে কৃষকদের আগ্রহের শেষ নেই। তারা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দারুচিনি চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় চাষিরা দারুচিনিরচাষ করছেন। বাংলাদেশের মাটি এবং জলবায়ুতে দারুচিনি উত্পন্ন করা সম্ভব। বেলে দোআঁশ মাটিতে চাষ করলে গাছের বাকলের গুণমান ভালো হয়। অপেক্ষাকৃত উচুঁ জায়গায় দারুচিনিরগাছ লাগাতে হয়। দারুচিনিগাছ একটানা খরা সহ্য করতে পারে না। এ গাছের চাষ আর্দ্র এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো হয়। দারুচিনির চারা সাধারণত বীজ থেকে হয়ে থাকে। তবে কাটিং বা গুটি কলম করেও চারা করা যায়। দারুচিনিগাছে জানুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল পাকতে শুরু করে। গাছ থেকে বীজ সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি পারা যায় তা মাটিতে বুনতে হবে। দারুচিনি বীজ উঁচু বীজতলায় রোপণ করতে হবে। এর পর যখন চারা তৈরি হবে তখন তা স্থানান্তর করতে হবে। দারুচিনি চাষের জমি ভালো করে কয়েকটি চাষ এবং মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এর চারা যখন পাতার রং সবুজ হবে তখন সেসব চারা নিয়ে মাটিতে লাগাতে হবে। এখানে মনে রাখতে হবে কচি চারার রং লালচে ধরনের হয়ে থাকে।
দারুচিনির চাষ করতে হলে বর্ষার সময় চারা রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় সারি করে চারা রোপণ করতে হবে। প্রতিটি সারির দূরত্ব হবে ২ মিটার। দারুচিনি চাষ করার ক্ষেত্রে প্রথম বছর ৫০ গ্রাম টিএসপি, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৭৫ গ্রাম এমপিও সার দিতে হবে। প্রতি বছর দারুচিনিগাছের গোড়ায় ১৫ থেকে ২০ কেজি গোবর দিতে হবে। সার প্রয়োগের শেষ দিকে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৪৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ৫০০ গ্রাম এমপিও সার দিতে হবে। দারুচিনিগাছে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই হয়ে থাকে। যেমন গোলাপি রোগ, মরচে ধরা রোগ, প্রজাপতি, পাতা খেকো লেদা পোকা, লাল পিঁপড়া এবং পোকাগুলো দারুচিনিগাছের বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি করে থাকে। দারুচিনিগাছ ১০ থেকে ১৫ ফুট লম্বা হতে পারে। পাঁচ বছর বয়সি গাছ থেকে নিয়মিতভাবে ছাল ছাড়াবার ডাল পাওয়া যাবে। একাধিকবার ডাল কাটা যায়। এপ্রিল মে মাসের দিকে ডাল কাটতে হয়। পরিণত গাছ হতে বছরে প্রতি হেক্টর জমিতে চাষকৃত দারুচিনিগাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ কেজি শুকনো দারুচিনির ছাল পাওয়া যায়। শুকনা পাতা এবং ছাল থেকে তেল নিষ্কাশন করা যায়। দারুচিনির তেল বাণিজ্যিকভাবে সুগন্ধি এবং ওষুধ শিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে। আমাদের দেশে আদিকাল থেকেই দারুচিনি জনপ্রিয় মসলা হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। দারুচিনিগাছের প্রতিটি অংশ কাজে লাগে। বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে দারুচিনি আমদানি করা হয়। দেশে ব্যাপকভিত্তিতে দারুচিনির চাষ করলে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।