মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় ২০০ মানুষ পরিবারের ভরণপোষণ নির্বাহ করছে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আহরিত শিলা কাঁকড়া বিক্রি করে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আহরিত কাঁকড়া বিক্রি করে একজন কাঁকড়া শিকারি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ টাকা আয় করেন। এতেই চলে তাদের সংসার।
আহরিত কাঁকড়াগুলোর মধ্য থেকে বিভিন্ন গ্রেডের রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া পাইকারদের হাত ঘুরে পৌঁছে যায় ঢাকায় রপ্তানিকারকদের কাছে। উপজেলার মায়ানী বড়ুয়া পাড়া বাজারের কাঁকড়ার আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মায়ানী বড়ুয়া পাড়া বাজারে স্থানীয় কাঁকড়া শিকারিদের কাছ থেকে দৈনিক দেড় থেকে ২ লাখ টাকার রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া ক্রয় করা হয়।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ডোমখালী, সাহেরখালী, চরশরত্ ও ইছাখালী এলাকার সমুদ্র উপকূলে ভাটার সময় ২০০ কাঁকড়া শিকারি গর্ত তাড়া পদ্ধতিতে কাঁকড়া ধরেন। গর্ত থেকে কাঁকড়া বের করতে কাঠের হাতলযুক্ত কয়েক ফুট লম্বা লোহার শিক (স্থানীয় নাম কোটা) ব্যবহার করা হয়।
মিরসরাই উপজেলায় বেশি কাঁকড়া বেচাকেনা হয় মায়ানী ইউনিয়নের মায়ানী বড়ুয়া পাড়া বাজারে। সরেজমিনে দেখার জন্য মায়ানী বড়ুয়া পাড়া বাজারে গেলে কথা হয় স্থানীয় কাঁকড়ার আড়তদার অমল বড়ুয়ার সঙ্গে।
তিনি বলেন, মিরসরাইয়ের সমুদ্র উপকূল থেকে আহরিত পরিপক্ব কাঁকড়া বিভিন্ন গ্রেডভেদে ক্রয় করা হয়। এই বাজারে পাঁচ জন কাঁকড়ার আড়তদার রয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা থেকেও আড়তদার আসেন। পুরুষ কাঁকড়ার তুলনায় স্ত্রী কাঁকড়ার দাম বেশি। রপ্তানিযোগ্য স্ত্রী কাঁকড়া ১৮০ গ্রাম গ্রেড ধরে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং পুরুষ কাঁকড়া ৫০০ গ্রাম গ্রেড ধরে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় ক্রয় করা হয় এই বাজারে। ক্রয়কৃত জীবন্ত কাঁকড়া খাঁচায় ভরে আমরা ঢাকায় রপ্তানিকারকদের কাছে পৌঁছে দেই। ঢাকা থেকে সেই কাঁকড়া রপ্তানি হয় বিভিন্ন দেশে।
উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের মায়ানী বড়ুয়া পাড়া এলাকার কাঁকড়া শিকারি নিরঞ্জন বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, মিরসরাই উপজেলার ২০০ কাঁকড়া শিকারি প্রায় সারা বছরই কাঁকড়া শিকার করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে কাঁকড়া বেশি পাওয়া যায়। কাঁকড়া শিকার অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ। কাঁকড়ার গর্তে সাপ থাকে, তারপরও আমরা জীবিকার তাগিদে কাঁকড়া শিকার করি।
তিনি আরো জানান, ‘আমি ২০ বছর ধরে কাঁকড়া শিকার করি। এই কাঁকড়া শিকার করেই আমি দুই ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি।’