ভারতের উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় বিজেপির সাবেক এক বিধায়ককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। শুক্রবার দিল্লির ঐ আদালত বিজেপির বহিষ্কৃত আইনপ্রণেতা কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করে। সেই সঙ্গে তাকে ২৫ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়। আনন্দবাজার পত্রিকা
দিল্লির তিসহাজারি কোর্টে ঐদিন দুপুরে সেঙ্গারের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক ধর্মেশ শর্মা। গত সপ্তাহে এই মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সে সময় তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজার আবেদন করেছিল সিবিআই। তবে সেঙ্গারের আইনজীবীর আর্জি ছিল, যাবজ্জীবন নয়, ১০ বছরের সাজা দেওয়া হোক তাকে। এ দিন সাজা ঘোষণার সময় সেই আর্জি খারিজ করে বিচারক বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসাবে মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন সেঙ্গার।’ আদালতের মতে, উন্নাওয়ের ঐ ধর্ষিতাকে নানাভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন সেঙ্গার। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে উন্নাওয়ে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তত্কালীন বিজেপি বিধায়ক সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে সেই অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল নির্যাতিতা ও তার পরিবারের। সেই সঙ্গে সেঙ্গারের ভাই অতুল সেঙ্গারের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার বাবাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকে। আরো অভিযোগ, গুরুতর আহত ঐ ব্যক্তিকে হাসপাতালের বদলে ভুয়া অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দুই দিন পর পুলিশি হেফাজতেই মৃত্যু হয় নির্যাতিতার বাবার। এর পর সুবিচারের দাবিতে লখনৌতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারি বাসভবনের সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ঐ কিশোরী। তাতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।