ফোনে অভিযোগ পেয়ে দুদকের দেশ জুড়ে অভিযান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে যে অভিযোগ এসেছে সেখান থেকে বাছাই করে গত বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। দুদকের টোল ফ্রি হটলাইন নম্বরে (১০৬) এই ফোনগুলো আসে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক শিক্ষক কর্তৃক মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত্ করার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া রহমাতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিগত ১৭ বছর যাবত্ মাদ্রাসায় পাঠদান না করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এইচ এম আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। সরেজমিন অভিযানে টিম উক্ত প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পায়।

একই টিম নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ইউনিয়ন ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ প্রদানসহ নানাবিধ সেবা প্রদানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে টিমের পক্ষ থেকে রসিদ প্রদানপূর্বক সরকার নির্ধারিত হারে সব সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মদতে চাটিতোলা গ্রামে সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা তৈরির অভিযোগ খতিয়ে দেখে দুদক টিম। অভিযানকালে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে উক্ত খাল দখল করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। এ অবৈধ স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করে অভিযান পরিচালনাকারী টিম।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে, মাগুরা বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এবং মাগুরা সদর হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে যথাক্রমে প্রধান কার্যালয় এবং যশোর জেলা কার্যালয় হতে তিনটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।