রাজশাহীতে স্যাম্পল ওষুধের রমরমা বাজার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীর অধিকাংশ ফার্মেসিতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল। ফার্মেসি মালিকরা জানার পরও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি করছেন অবাধে। এগুলো বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও ভোক্তা অধিকারসহ স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালাতে গিয়ে প্রায়ই এসব পাচ্ছেন, জরিমানাও করছেন। কিন্তু থামছে না এসব ওষুধ বিক্রি। অন্যদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব ওষুধ সুস্থতার বদলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ধরনের ওষুধ বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের তেমন কোনো জোরালো উদ্যোগ নেই রাজশাহীতে। তবে সম্প্রতি রাজশাহীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।

গত বুধবারও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে তিন প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে নগরীর মোন্নাফের মোড়ের    শাহীন ফার্মেসিকে ৬ হাজার টাকা, কাজলার লামিয়া ফার্মেসিকে ৬ হাজার টাকা ও কাজলার আলী ফার্মেসিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে তিন ফার্মেসিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল পাওয়া যায়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাসান আল মারুফ বলেন, আমরা জানি রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি ফার্মেসিতেই নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া বুধবার তিন ফার্মেসিতে অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল পাওয়া গেছে। তাই তাদের ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে চলতি বছর অভিযানে কতগুলো ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়েছে,  সে সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি। এদিকে রাজশাহীর বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য ফেরত না নেওয়ায় এসব পণ্য তারা বিক্রি করে থাকেন বলে জানিয়েছে রাজশাহীর ফার্মেসি মালিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফার্মেসি মালিক বলেন, আমাদের কী দোষ? ওষুধ কোম্পানিই আইন মানে না। তারা ওষুধ দেয়, সঙ্গে নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পলও দেয়। সাধারণ ওষুধ সরবরাহ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির রাজশাহী শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ড. ফয়সাল কবির চৌধুরী বলেন, সমিতির মাধ্যমে ফার্মেসির মালিকদের বহুবার বলেছি এগুলো বিক্রি না করতে। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী ঐ ওষুধ বিক্রি করেছেন। ঐ সকল ফার্মেসি মালিকদের সংগঠন থেকে সাহায্য করা হয় না। তারাও চান বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ যেন ফার্মেসিতে না আসে। ওষুধ প্রশাসন যেন অতি দ্রুত ঐসব ফার্মেসির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন সেটাই তাদের চাওয়া।

রাজশাহী ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মির্জা মো. আনোয়ারুল বাসেদ বলেন, তাদের অভিযান চলছে। তারাও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ একটি পাত্রে রাখতে বলেছেন। সংরক্ষণের পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কোম্পানির লোকেরা নিয়ে যাবে। তাদের উপস্থিতিতে ঐসব ওষুধ নষ্ট করার কথা। গত তিন মাসে তারা ৪০ লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট করেছেন। কেউ বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।