ইত্তেফাক রিপোর্ট
পুরান ঢাকায় সংস্কৃতির আলোকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি। সংগীতসহ শিল্পকলার নানা মাধ্যমে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এবার তারা শুরু করেছে ছবি প্রদর্শনী। ওয়াইজঘাটের বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) স্থাপিত হলো নতুন একটি গ্যালারি। প্রাচীন ভবনটির দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি কক্ষ মিলিয়ে প্রশস্ত স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বাফা আর্ট গ্যালারি। প্রদর্শনীর মাধ্যমে পথচলা শুরু করল প্রদর্শনালয়টি। বাফারই চারুকলার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্মে সজ্জিত শিল্পায়োজনটির শিরোনাম ‘দ্য স্ট্রাগল অব লিবারেশন অ্যান্ড মুজিব’। নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ প্রদর্শনী।
দীর্ঘদিন ধরেই পুরান ঢাকায় একটি গ্যালারির অভাব অনুভূত হয়েছে। এতদিন এই অঞ্চলে শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য পৃথক কোনো চিত্রশালা বা মিলনায়তন ছিল না। সেই বাস্তবতায় এই গ্যালারিটি শুধু বাফা নয়, সমগ্র পুরান ঢাকার জন্যই একটি মাইলফলক। পাশাপাশি এ ধরনের প্রাচীন স্থাপনায় এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ চিত্রশালা। আহসান মঞ্জিলের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের এটি আকর্ষণ করবে।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে পৌষের বিকেলে প্রদর্শনী উদ্বোধন হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান। সভাপতিত্ব করেন বাফার ওয়াইজঘাট শাখার সভাপতি হাসানুর রহমান বাচ্চু। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সম্পাক মো. ফজলুর রহমান।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে ফরিদা জামান বলেন, ঢাবির চারুকলা অনুষদের বাইরেও বাফার মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরনো অনেক শিল্পীই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। সেসব শিল্পীদেরই মেধা-মননের ফসল এই প্রদর্শনী। ভালোলাগার মতো কিছু চিত্রকর্মের দেখা মিলেছে এই শিল্পায়োজনে।
প্রদর্শনীতে একাডেমিক কাজের পাশাপাশি নিরীক্ষাধর্মী চিত্রকর্মও উপস্থাপিত হয়েছে। লোকজ বাংলার শিল্পপ্রকরণের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কাজ যেমন রয়েছে তেমনি বিমূর্তধারার এক্সপেরিমেন্টাল কাজেরও দেখা মেলে। জলরং, তেলরং, অ্যাক্রেলিক ও মিশ্র মাধ্যমে চিত্রিত হয়েছে চিত্রকর্মগুলো। প্রদর্শনীটির কিউরেটিং করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চারু ও কারুকলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক উত্তম কুমার রায়।
‘৬১ শিল্পীর ৭০টি চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। বিশেষভাবে দর্শনার্থীর নজর কেড়েছে অস্পৃশ্য রাণী দাস, সামিয়া আক্তার নিম্মী, শ্রীকান্ত ভৌমিক, আবুল খায়ের, নয়ন কুমার অধিকারী, রাকিবুল হাসান, সুব্রত পালন চৌধুরী, খুরশিদ নিজামী খুশিসহ কয়েকটি শিল্পীর কাজ। তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।