চট্টগ্রামে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো ঠেকাতে শিগিগরই অভিযান

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ইটভাটাগুলোতে ব্যাপকভাবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। একাধিক ইটভাটার মালিক জানিয়েছেন, কয়লার চেয়ে কাঠের দাম অনেক কম। প্রশাসনকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য সামান্য কিছু কয়লা কিনে ভাটার সামনে রেখে দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে কয়লা ব্যবহার করা হলেও অধিকাংশ সময় কাঠ দিয়েই ইট পোড়ানো হয়। অভিযোগ আছে, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়েই এসব ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

এদিকে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহারের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার জেলা  উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, জেলার আনোয়ারা-বাঁশখালী অংশের তৈলারদ্বীপ এলাকার নদীসহ জেলার অন্যান্য নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট করে মাটি তুলে নিয়ে ইট ভাটায় ইট তৈরি বন্ধ ও বন উজাড় করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে লোহাগাড়ায় অবৈধভাবে এক্সকাভেটর দিয়ে আবাদি জমির  মাটি কাটা ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনের সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শিশির স্বপন চাকমা ও কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেনসহ আরো কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণেও অভিযান চলবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

জানা গেছে, কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও চট্টগ্রামের ইটের ভাটাগুলোতে তা মানা হচ্ছে না। প্রায় সব ইটের ভাটায় বেপরোয়াভাবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটাগুলোতে ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, মিরসরাই, বোয়ালখালি, বাঁশখালি, লোহাগাড়া, সাতকানিয়ায় ইটভাটাকেন্দ্রিক জ্বালানি কাঠের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। ইটের ভাটায় জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করতে সংরক্ষিত সরকারি বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এলাকার বসতভিটায় লাগানো গাছও নিধন হচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনকভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অথচ পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যেন ঘুমিয়ে আছেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই এবং রাঙ্গামাটির ঘাগড়া ও কাউখালী এলাকার সংরক্ষিত সরকারি বনাঞ্চল এবং বাগানের গাছ সবই যায় ইটভাটায়। একশ্রেণির চোরাই কাঠ ব্যবসায়ী অসাধু বনকর্মীদের যোগসাজশে বনের মূল্যবান গাছ কেটে জ্বালানি কাঠ হিসেবে ইটভাটায় সরবরাহ করে চলেছে। রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের সামাজিক বনায়নের অনেক অংশীদার বনকর্মীর যোগসাজশে তাদের বাগান থেকে চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে বিকিয়ে দিচ্ছে।রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা, পোমরা, চিরিঙ্গা বন বিট এবং ইছামতি রেঞ্জের আওতায় উত্তর রাঙ্গুনিয়ার শত শত সামাজিক বনায়নের বাগান আশপাশের ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে উজাড় হয়ে গেছে। মিরসরাইয়ের পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে অবাধে কাঠ সংগ্রহ করে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।