জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন
স্টেশনে প্রয়োজনীয় ওয়েটিং রুম
না থাকায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। শৌচাগারের
ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়
মুজিবুর রহমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনটি প্রথম শ্রেণির কিন্তু যাত্রীরা পেয়ে থাকেন তৃতীয় শ্রেণির সেবা। স্টেশন কর্তৃপক্ষ বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিলেও মিলছে না প্রথম শ্রেণির সেবার জনবল ও আনুষঙ্গিক সুবিধা। এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন ৩৪ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাজার লোক চাকরি বা অন্যান্য প্রয়োজনে শুধু রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করে এ স্টেশন দিয়ে। তাছাড়া আরো কয়েক হাজার যাত্রী প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসা করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ রেলওয়ে জংশন স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ট্রেনে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্টেশনে প্রয়োজনীয় ওয়েটিং রুম না থাকায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া শৌচাগারের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় প্ল্যাটফরমসহ পুরো স্টেশন এলাকায় ধুলাবালি ও আবর্জনায় নোংরা হয়ে থাকে। উপরন্তু স্টেশনে রয়েছে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব।
স্টেশনের ভেতরে একটি প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার থাকলেও তা ব্যবহার করা হয় না। এটি তালাবদ্ধ থাকছে বছরের পর বছর। এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার জানান, বিশ্রামাগারটিতে বসার জন্য সোফা, চেয়ার, শীতাতপযন্ত্রসহ কোনো আসবাবপত্র নেই। এছাড়া এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো লোকবলও নেই।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন থেকে ঢাকার কমলাপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। ট্রেনে কমলাপুর যেতে সময় লাগে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। কিন্তু সড়কপথে গাজীপুর শহর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা। ডেম্যু ট্রেনে ঢাকার ভাড়া মাত্র ৪৫ টাকা। অন্যদিকে বাসের ভাড়া ৮০ টাকা। তাই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ট্রেন ভ্রমণ। ট্রেনের যাত্রী সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার যাত্রী সড়কপথের দুঃসহ যানজট এড়াতে ট্রেনে যাতায়াত করছে। কিন্তু এ স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী বাড়লেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে।
জয়দেবপুর জংশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান জানান, ১২ বছর পূর্বে এ স্টেশনটি তৃতীয় শ্রেণির স্টেশন ছিল। বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণির স্টেশনে অন্তর্ভুক্ত আছে। সারাদেশের প্রথম শ্রেণির রেল স্টেশনের মধ্যে এ স্টেশন রাজস্ব আয়ে পঞ্চম পর্যায়ে। বলা চলে বিভাগীয় শহর স্টেশন সিলেট ও খুলনার চেয়ে আয় বেশি এ স্টেশনে। কিন্তু জনবলের দিক এবং যাত্রীর সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এটি তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় স্বল্প জনবল দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে এ স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
স্টেশন সূত্র জানায়, জয়দেবপুর স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ৩৪ জোড়া অর্থাত্ ৬৮টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া করে। এর মধ্যে ২২ জোড়া ট্রেন অর্থাত্ তুরাগ, আন্তঃনগর, কমিউটার এবং ৪টি ডেম্যুসহ মোট ৩০টি ট্রেন জয়দেবপুর জংশনে থেমে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। এ জংশন থেকে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার যাত্রী শুধু রাজধানী ঢাকাতেই যাতায়াত করে। এ স্টেশনে একজন স্টেশন মাস্টার ও তিন জন সহকারী স্টেশন মাস্টার দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম শ্রেণির স্টেশন হলেও তৃতীয় শ্রেণির জনবল দিয়ে চলছে এ জংশনটি। এখানে ট্রেন অপারেশন স্টাফ রয়েছেন ১৬ জন আর বাণিজ্যিক কাজে রয়েছেন ১৪ জন স্টাফ। নেই কোনো ক্লার্ক, এমএলএসএস, সুইপার।
স্টেশন মাস্টার আরো জানান, এ জংশনে ১৮ জোড়া ট্রেনের কোনো যাত্রাবিরতি নেই। গাজীপুর মহানগরীর লোকজন বারবার চিঠি দিচ্ছে এসব ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ আকারে পাঠিয়েছি। তবে এ জংশন নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাপক পরিকল্পনা আছে। এখানে আধুনিক রিমডেলিং স্টেশন নির্মাণ, টঙ্গী-গাজীপুর ডবল রেললাইন চালু ও ডেমু ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। সিলেটের বিমানবন্দর রেল স্টেশনের মতো এখানে যাত্রী সমাগম হলেও যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য নেই প্ল্যাটফরমসহ অন্যান্য সুবিধা। এছাড়া স্টেশনটিতে ডিজিটাল ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। তবে খুব শিগিগরই এ স্টেশনটিতে প্রথম শ্রেণির সুযোগ-সুবিধা ও যাত্রীসেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।