ক্রিকেট পলিসি

/ হামীম রায়হান

 

ছোটবেলায় সারাদিন কাটত খেলার মাঠে। আর খেলা মানেই ক্রিকেট। ক্রিকেট মানেই টান টান উত্তেজনা! কোন দল হারবে, কোন দল জিতবে? হারতে যেন কেউ চায় না। দু দলই চায় জিততে। কিন্তু খেলায় তো তা সম্ভব নয়।

আমাদের খেলায় কিছু নিয়ম ছিল। এই যেমন :কোনো ব্যাটসম্যান যদি ছোট হতো, তাহলে আমরা বিপক্ষ দলকে বলতাম জোরে বল না করার জন্য। যদি বিপক্ষ দল জোরে বল করত, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নো বল হয়ে যেত। কেউ যদি জোরে বলে আঘাত পেত, তাহলে লেগে যেত মারামারি! আর মারামারি লাগলেই বিপক্ষ দলের ব্যাট, বল ইত্যাদি চুরি করে নিতাম। প্রতিটা আউটেই লেগে যেত ঝগড়া। তখন সব দোষ গিয়ে পড়ত ঐ আম্পায়ারের ঘাড়ে।

যেহেতু আমরা মাঠে জেতার জন্যই নামতাম, তাই সব সময় জেতার চেষ্টা করতাম। তাই বলে যে সব সময় জিততাম, তা নয়। তবে খুব কম হারতাম! কীভাবে তা সম্ভব ভাবছেন? একদম সহজ বিষয়! যখন দেখতাম জেতা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তখন আমাদের ঝগড়া স্পেশালিস্ট সেন্টু ভাই তার কারিশমা দেখাতেন। কোনো না কোনো কারণে বিপক্ষ দলের সঙ্গে ঝগড়া লাগাত। আর এ ঝগড়ার রেশ ধরে খেলায় শুরু হতো দৌড়ঝাঁপ। সর্বোপরি খেলা অমীমাংসিত থাকত। অর্থাত্ আমরা খেলা ভেঙে দিয়ে চলে আসতাম।

সেদিন বাংলাদেশের খেলা দেখতে দেখতে শৈশবের এমন স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেল! বারবার মনে হচ্ছিল, আইসিসি যদি এমন কোনো আইন করত যাতে বলা থাকবে ছোটদের জোরে বল করা যাবে না। কোনো বল জোরে এলে বলতে পারতাম, ‘এত জোরে বল করা যাবে না।’ আর যখন দেখছি কোনোভাবেই পার পাওয়া যাচ্ছে না, তখন উচিত আমাদের সেই মহা পলিসি গ্রহণ করা। ঝগড়া পলিসি। ঝগড়া করে খেলা বন্ধ করে দেওয়া। তখন আর এমন লজ্জাজনক ভাবে হারতে হতো না! আমরা র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি করতাম। আমাদের মনও খারাপ হতো না। ব্যঙ্গ কবিতা, গল্পও লিখতে হতো না।

আশা করি, আমাদের এ পলিসিগুলো ক্রিকেট বোর্ড গ্রহণ করবে। বোর্ড চাইলে এলাকার সেন্টু ভাইকে পরামর্শক হিসেবে নিতে পারে।

পটিয়া, চট্টগ্রাম