/ হিমু চন্দ্র শীল
ইতিমধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিট্টু দাদা ভালো চাকরি পেয়েছে। মানুষের মুখে মুখে চাউর হয়েছে, বিট্টু ছেলেটা সত্যি খুবই ভাগ্যবান। সেদিন সন্ধ্যাবেলা আমি রহমতের দোকানে বসে আছি রং চায়ের কাপ হাতে। দেখি বিট্টু দাদা আসতেছে। খুবই স্মার্ট স্মার্ট ভাব দেখে আমিও অবাক হলাম। ভাবলাম, এটা কি সেই বিট্টুদা। ‘দাদা কেমন আছেন, কী খবর?’ বিট্টু দাদা আমার পাশে এসে বসল। ওনার জন্যও একটা চায়ের অর্ডার করলাম। চা খেতে খেতে দাদাকে বললাম, ‘দাদা, পাড়ায় তো দেখি তোমার গুণগান করছে সবাই। ধন্য ধন্য করে বলে বেড়াচ্ছে, তুমি ভালো চাকরি জুটিয়ে নিয়েছ। কী ব্যাপার ভাই, কিচ্ছু তো জানালে না? বিট্টুদাও এমন ভাব নিল, যা দেখে আমিও সত্যি সত্যি টাসকি খেয়ে গেলাম। আমিও ভাবলাম, তাই তো বিট্টুদা সত্যিই ভালো চাকরি পেয়েছে। ‘দাদা, তুমি কোন কোম্পানিতে চাকরিটা পেয়েছ?’ দাদা আমার এহেন প্রশ্ন শুনে বলল, ‘শেষমেশ তুইও জেনে গেলি যে আমি ভালো চাকরি পেয়েছি।’ ‘হ্যাঁ, পাড়ায় তো সবাই তাই বলাবলি করছে। আমি চাকরি পেয়েছি ঠিক, তবে ওটা ইন্টার্নি। মানে ইন্টার্নশিপ, যেটা চাকরির আগে করতে হয়।’ ‘ও আচ্ছা, তাই!’ আমি অবাক হয়ে বলি, ‘দাদা নিশ্চয় একটা ভালো কোম্পানিতে তাই না।’ ‘হ্যাঁ রে, কপাল লাগেরে ভাই, কপাল লাগে।’
এর কয়েকদিন পর একদিন সন্ধ্যায় এক জায়গায় গিয়েছি, কিছুদূরে দেখি একটা জটলা। সবাই ধরধর মারমার করে একটা লোককে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কৌতূহলবশত গিয়ে দেখি আরে এটা যে বিট্টুদা। দৌড়ে গিয়ে সবার কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিলাম। ঘটনা কী বলতেই বিট্টুদা বলল, ‘ভাই সত্যি বলতে আমি ইন্টার্নশিপ করতেছি ঠিক। তবে ওটা কোনো কোম্পানিতে নয়, পথে-ঘাটে। আর ওটা চাকরির ইন্টার্নশিপ নয়, পকেটমারের ইন্টার্নশিপ। তাই আজ আমার এই অবস্থা।’
আমি তব্দা হয়ে হা করে তাকিয়ে আছি বেচারা বিট্টুর দিকে।
কক্সবাজার সরকারি কলেজ