/ সত্যজিত্ বিশ্বাস
তারপরও বলছেন কাজ হয়নি?
সাংবাদিক :পাঁচ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ অর্থ ধার করা শেষ, এটা কোনো কাজ হলো?
নেতা :সরকার পুরো বছরের কাজ পাঁচ মাসেই প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তারপরও বলছেন কাজ হয়নি?
আমাদের বুঝি শীত করে না?
সাংবাদিক :আচ্ছা মশা আপা, শীতকালে ঘরে কী?
মশা :ওমা, আমাদের বুঝি শীত করে না?
সাংবাদিক :তাই বলে দলে দলে ঘরে আসবেন?
মশা :আত্মীয়স্বজনদের কোথায় রেখে আসব শুনি?
কী আর হবে?
স্বামী (পেপার পড়তে পড়তে) :পাঁচ মাসেই ৯০ শতাংশ অর্থ ধার করা শেষ, দেশের ইতিহাসে এমন অবস্থা আর কখনো হয়নি। কী যে হবে?
স্ত্রী :কী আর হবে? নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে।
তাহলে খুঁজছেন কেন?
স্ত্রী হারিয়ে থানায় হাজির হয়েছে কুদ্দুস সাহেব।
কুদ্দুস সাহেব :আমার স্ত্রীকে খুঁজে পাচ্ছি না।
পুলিশ অফিসার :আপনার স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য কী?
কুদ্দুস সাহেব :অনেক মোটা, বেঁটে, চিত্কার-চেঁচামেচি ছাড়া কথা বলতে পারে না।
পুলিশ অফিসার :তাহলে খুঁজছেন কেন?
আমার মামা সব জানে
ভাগ্নে :আচ্ছা মামা, সরকার এবার এত বেশি ধার করছে কেন?
মামা :বালিশ, পর্দা থেকে শুরু করে পেঁয়াজ পর্যন্ত যে ধকল যাচ্ছে, ধার করা ছাড়া উপায় কী শুনি?
কোম্পানিগুলোর কথা ভেবে
প্রথম বন্ধু :আচ্ছা দোস্ত, ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া বের হয়, মশা মরে না কেন রে?
দ্বিতীয় বন্ধু :স্প্রে আর কয়েল কোম্পানিগুলোর কথা ভেবে।
পরিস্থিতি ধোঁয়া ধোঁয়া করতে
প্রথম বন্ধু :ফগার মেশিনের ধোঁয়ায় যদি মশা নাই মরে তাহলে ধোঁয়া দেওয়া হয় কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :পরিস্থিতি ধোঁয়া ধোঁয়া করতে।
স্থায়ী সমাধান
এলাকাবাসী :ইস্কাটন গার্ডেন রোড প্রায় তিন মাস ধরে পয়োনালার পানিতে সড়ক সয়লাব। এটা কোন কথা হলো?
কর্তৃপক্ষ :শীতকালে রাস্তায় ধুলা ওড়ে তো, তাই পানির এমন স্থায়ী সমাধান।
গার্ডেন তো, তাই
পথিক :কী রে ভাই, ইস্কাটন গার্ডেন রোডে পয়োনালার পানি কেন?
স্থানীয় বাসিন্দা :গার্ডেন রোড তো, তাই জৈব সারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হেঁটেই পার হওয়া যায়
—রাস্তায় এমন ভাবে পয়োনালার পানি জমে থাকলে রাস্তা পার হন কীভাবে?
—পানি বেশি না তো। সাঁতার দেওয়া লাগে না, হেঁটেই পার হওয়া যায়।
বেঁচে তো আছে
প্রথম ছাত্র :শুনেছিস, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ক্লাস-পরীক্ষা’ নাকি হয় সিসিইউ ভবনে?
দ্বিতীয় ছাত্র :তাও ‘ক্লাস-পরীক্ষা’ বেঁচে তো আছে।
সে খেয়াল আছে?
প্রথম বন্ধু :দেশে চিকিত্সা ব্যয় বেড়েই চলেছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :বাড়বে না? পরীক্ষা-নীরিক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্দা কিনতে কী পরিমাণ খরচা হচ্ছে হাসপাতালগুলোর, সে খেয়াল আছে?
সমাধান
প্রথম বন্ধু :দিন দিন চিকিত্সা ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর সমাধান কী বল তো?
দ্বিতীয় বন্ধু :চিকিত্সা না করানো।
কেমনে কী
প্রথম শ্রমিক :কীরে ১০০ টাকার নোটের দিকে তাকিয়ে কী ভাবস?
দ্বিতীয় শ্রমিক :ভাবতাছি, এইটা দিয়া যদি ওষুধ কিনি, তাহলে চাল কিনুম কী দিয়া? আর যদি চাল কিনি তাহলে ওষুধ কিনুম কী দিয়া?
কী করা যায়?
প্রথম বন্ধু :বছরটা তো শেষ হয়ে যাচ্ছে। কী করা যায় বল তো?
দ্বিতীয় বন্ধু :চল পিকনিক করি।
প্রথম বন্ধু :তাতে কী বছরটাকে থামিয়ে রাখা যাবে?
২০১৯ ভার্সেস ২০২০
বিল্টু :বাবা, নতুন বছরে নতুন কিছু কি পাব?
জ্যোতিষ বাবা :অবশ্যই পাবি। নতুন ক্যালেন্ডার, নতুন ডায়েরি।
বিল্টু :নতুন বছরে পুরোনো কিছু থাকবে না?
জ্যোতিষ বাবা :অবশ্যই থাকবে। ২০১৯ সালের স্মৃতি।
বিল্টু :আরো তো কিছুদিন বাকি আছে, এ বছরে কিছু কি হবে না?
জ্যোতিষ বাবা :অবশ্যই হবে। নতুন বছরের জন্য আশায় বুক বাঁধা।
নতুন বছরে আর কী
প্রেমিকা :নতুন বছরে নতুন কাতান শাড়ি, চুড়ি আর ম্যাচ করা লিপস্টিকের সাথে আর কী দেবে গো?
প্রেমিক :একটা টাকাওয়ালা প্রেমিক দেয়ার কথা ভাবছি।
নতুন বছরের ভাবনা
নতুন বছর নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভাবনা :এ বছরটা তো গেল। সামনের বছরটা পইরা ফাটাইয়া ফেলব।
নতুন বছর নিয়ে প্রেমিক প্রেমিকাদের ভাবনা :এ শীতটা কোলবালিশ দিয়ে কাটিয়ে দিলাম। সামনের বছর বিয়া কনফার্ম।
নতুন বছর নিয়ে বেকারদের ভাবনা :এ বছরটা রেস্ট নিলাম। সামনের বছর কোনো ছাড় নাই। অফিস আর আমি, আমি আর অফিস।
নতুন বছর নিয়ে চাকরিজীবীদের ভাবনা :এ বছরটা দাঁতে দাঁত চাইপা পইড়া রইলাম। সামনের বছর প্রমোশন না পাইলে সোজা ফুড়ুত্।
নতুন বছর নিয়ে স্বামী স্ত্রীর ভাবনা :এ বছর তো ভাড়া বাসায় মুরগির খাঁচায় কাটিয়ে দিলাম। সামনের বছর যেন নিজেদের একটা বাড়ি হয়।
নতুন বছর নিয়ে প্রৌঢ়দের ভাবনা :এ বছর তো টিকে গেলাম। সামনের বছর টিকব তো?