খুলনাকে থামিয়ে সিলেটের প্রথম জয়

আন্দ্রে ফ্লেচারের সেঞ্চুরি

 স্পোর্টস রিপোর্টার

টি-২০ ক্রিকেটের পূর্ণ বিনোদন উপহার দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের উইকেট। শীতের প্রবাহের মধ্যে চার-ছক্কার মারকাটারি ব্যাটিংয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। সাগরিকার উইকেটে ব্যাটসম্যানরা মেতে উঠছেন রান উত্সবে। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয় ব্যাটিং ঝড় উপভোগ করেছেন দর্শকরা। আন্দ্রে ফ্লেচার, জনসন চার্লসের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের দিনে অনেক ‘প্রথমের’ মেলবন্ধন হয়েছিল সিলেট থান্ডার-খুলনা টাইগার্সের ম্যাচে।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে দিয়েছেন আন্দ্রে ফ্লেচার। চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরি আসল এই ক্যারিবিয়ানের ব্যাট থেকে। ফ্লেচার-চার্লসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে সিলেট। টানা চার ম্যাচ হারের পর জয়ের খাতা খুলল দলটি। গতকাল খুলনাকে ৮০ রানে পরাজিত করেছে সিলেট। টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল খুলনা।

ফ্লেচারের সেঞ্চুরিতে টসে হেরে ব্যাট করা সিলেট ৫ উইকেটে ২৩২ রানের বড়ো স্কোর গড়ে। জবাবে ১৮.৩ ওভারে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় খুলনার ইনিংস। সেঞ্চুরিয়ান ফ্লেচার ম্যাচ সেরা হন।

গতকাল একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল সিলেট। তাতেই ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নেতৃত্বাধীন দলটির। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আব্দুল মজিদ (২) ফিরেন ফ্রাইলিঙ্কের বলে বোল্ড হয়ে। তারপরই শুরু হয় দুই ক্যারিবিয়ানের তাণ্ডব। ফ্লেচার-চার্লসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সিলেট পায় বড়ো রানের ভিত। চার্লস ২৫ বলে, ফ্লেচার ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৫০ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। শহীদুলের বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে চার্লস ৩৮ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছয়ের মার। মিঠুন (৩), মোসাদ্দেক (১১), নাজমুল মিলনরা (১১) সুবিধা করতে না পারলেও একপ্রান্ত আগলে তোপ দাগিয়ে গেছেন ফ্লেচার।

৫৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ৫৭ বলে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন ফ্লেচার। তার ইনিংসেও ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছয়ের মার। খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক ২টি, শফিউল-শহীদুল-রবিউল ১টি করে উইকেট নেন।

বিশাল রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় খুলনা। বাঁহাতি স্পিনার মনির হোসেনের করা ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে ফিরেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ (০)। সাইফ হাসান-রাইলি রুশোর দ্বিতীয় উইকেট জুটি আশা জাগিয়েছিল। তারা ৭৫ রান যোগ করেন। সাইফ হাসান ২০ রান করে আউট হলেও রুশো আক্রমণ করে গেছেন। ইনিংসের দশম ওভারে বিপজ্জনক রুশোকে ফেরান নাভিন উল হক। তিনি ৩২ বলে ৫২ রান করেন। মিডল অর্ডারে ভরসা যোগাতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক (১২) ও শামসুর রহমান (৭)। তারপর রান-বলের দূরত্বও বেড়েছে, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে খুলনা। শেষ দিকে ফ্রাইলিঙ্কের ২০ বলে ৪৪ রানের ইনিংস শুধুই হারের ব্যবধান কমিয়েছে। সিলেটের পক্ষে সান্তোকি ৩টি, মনির হোসেন-এবাদত হোসেন ২টি করে এবং নাভিন উল হক ১টি উইকেট পান। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট থান্ডার    :  ২০ ওভারে ২৩২/৫

খুলনা টাইগার্স    :  ১৮.৩ ওভারে ১৫২

ফলাফল           :  সিলেট থান্ডার ৮০ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা         :  আন্দ্রে ফ্লেচার (সিলেট)