স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত সফরে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ জেতানো ৬০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। টেস্ট সিরিজে ইন্দোর, কলকাতায়ও ভারতের দুর্বার বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে লড়াকু ব্যাটিং করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। বঙ্গবন্ধু বিপিএলেও দারুণ ফর্মে আছেন তিনি।
আশার বেলুন অনেক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মুশফিকের নামটা আইপিএলের নিলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুরুতে নাম লেখাননি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। পরে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এই উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যানকে পেতে আগ্রহী জানিয়ে যোগাযোগ করে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অনুরোধে যোগ করা হয় মুশফিকের নাম। বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার এবার দল পাচ্ছেনই—এমন খবর ফলাও করে প্রচার করেছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। কিন্তু গত ১৯ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়া আইপিএলের ১৩তম আসরের নিলাম রাজ্যের হতাশা উপহার দেয়।
ভিত্তিমূল্য ৭৫ লাখ রুপিতে মুশফিকের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি আইপিএলের কোনো দল। আবারও নিলামে অবিক্রীত থাকেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। দল পাননি মুস্তাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটাররা। ৯ বছর পর আইপিএলে থাকছে না বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব।
যদিও মুশফিক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, আইপিএল নিলামে নাম দিতে চান তিনি। দল পাবেন না, তাও জানতেন। তার কাছে বাংলাদেশের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড়ো গর্বের বিষয়।
চট্টগ্রামে গতকাল সিলেটের কাছে ৮০ রানে হেরেছে মুশফিকের খুলনা। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে আইপিএলের নিলামে অবিক্রীত থাকা প্রসঙ্গে ৩২ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি প্রথমে অবশ্যই যাইনি। আমি জানি যে নিবেই না। এজন্য শুধু শুধু নাম দিয়ে লাভ নেই। তারপর তারা যখন অনুরোধ করেছে, তখন দেখলাম কোনো একটা সুযোগ থাকতে পারে। হয় নাই। এটা আমার হাতে নাই।’
বাংলাদেশের জন্য খেলাটাই মূল আকর্ষণ মুশফিকের কাছে। এখন বিপিএলে পারফর্ম করার প্রতিই মনোযোগী এই ক্রিকেটার। গতকাল বলেছেন, ‘আমাদের হাতে হচ্ছে যত ধারাবাহিক হতে পারি আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এটা হলে হবে, না হলে নাই। এটা আমার কাছে খুব একটা ব্যাপার না। বাংলাদেশের হয়ে খেলার চাইতে গর্ব করার মতো কিছু হতে পারে না। আমি এটা কখনোই মাথাব্যথা করি নাই। তবে একটা আশা ছিল। কিন্তু জীবন এগিয়ে যাবেই। এখন বিপিএলে খেলা, তো বিপিএলে আমি নজর দিতে চাই।’
ভবিষ্যতে আইপিএল নিলামে নাম দেবেন কি না, জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘সেটা ভবিষ্যত্ই বলে দেবে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী মুশফিকের আগ্রহ দেখিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, দিল্লি ক্যাপিটালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্স। মূলত উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাকে নিতে আগ্রহী ছিল দলগুলো। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তেমন আশাব্যঞ্জক কিছুই দেখা যায়নি।
আগ্রহ দেখানো ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমেই জেনেছিলেন মুশফিক। গতকাল বলেছেন, ‘আমি খুব বেশি ওরকম করে জানি না। আমি আপনাদের মাধ্যমেই জেনেছি যে কারা হয়তো আগ্রহী আমার ব্যাপারে। তো ওভাবেই জানি। এর ভিতরে বা বাইরে আর কোনোভাবে জানি না।’